বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সঙ্ঘ দিবস উদযাপন

৪জি নেটওয়ার্ক দেশের ৯৯ শতাংশ জনগোষ্ঠীর আওতায় এসেছে -আইসিটি মন্ত্রী

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বর্তমান সরকার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে দেশের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। এ আই, হার্ডওয়্যার, সেমিকন্ডাক্টর, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা সেন্টার, স্টার্টআপ এবং ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি উৎপাদন ও রফতানিতে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মোবাইল ফোন সংযোগ ১৮.৮৪ কোটিতে এবং ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ১৩.৩৬ কোটিতে পৌঁছেছে। ৪জি নেটওয়ার্ক দেশের ৯৯ শতাংশ জনগোষ্ঠীর আওতায় এসেছে।

‘ডিজিটাল জীবনধারা : সংযোগে স্থিতি, সহনশীলতায় শক্তি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সঙ্ঘ দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁও বিটিআরসি ভবনের প্রধান সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বাংলাদেশ মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে রয়েছে। এ সময় তিনি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বমানের ৫জি এবং দেশব্যাপী ফাইবার অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়াও তিনি এক নাগরিক, এক ওয়ালেট, এক আইডি’ এবং জাতীয় ডেটা ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনার পাশাপাশি সরকারি সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন মোকাবেলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ্ বিলকিস জাহান রিমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) মো: এমদাদ উল বারী। দিবসটি উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব ডোরিন বোগডান-মার্টিন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিবসটি উপলক্ষে ছিল বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন, প্রযুক্তিভিত্তিক স্মরণিকা প্রকাশ, রচনা প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিষয়ভিত্তিক টকশো। এ ছাড়া ১৭-১৮ মে দু’দিনব্যাপী বিটিআরসি প্রাঙ্গণে টেলিকম ও প্রযুক্তি মেলার আয়োজন করা হয়েছে।