চট্টগ্রাম ডিসির সাথে বিজিএমইএর মতবিনিময়

কমপ্লায়েন্সভিত্তিক গার্মেন্ট ভিলেজ স্থাপনে জমি বরাদ্দের আহ্বান

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক শিল্প (এসএমই) খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে কমপ্লায়েন্সভিত্তিক গার্মেন্ট ভিলেজ বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন স্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে ২-৩ একর করে জমি বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ।

এ উপলক্ষে গতকাল ডিসি অফিসে এক মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান, সহসভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-০৩, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) মো: শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ মানিউল হাসান ও তামজিদুর রহমান, পরিচালক এমডি. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাইফ উল্যাহ মানসুর ও এনামুল আজিজ চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম মিঞা প্রস্তাবটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি এবং এ খাতকে টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পরিকল্পিত কমপ্লায়েন্সভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠা অত্যাবশ্যক। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত সহায়তা, আধুনিক অবকাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। তিনি আরো জানান, বিজিএমইএর সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং সম্ভাব্যতা যাচাইসহ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষায়িত টিম গঠন করা হবে।

বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান বলেন, বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, নন-কমপ্লায়েন্স ইস্যু- বিশেষ করে ফায়ার সেফটি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও শ্রমিক কল্যাণ সংক্রান্ত শর্ত পূরণে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। একটি পরিকল্পিত কমপ্লায়েন্সভিত্তিক জোন প্রতিষ্ঠা করা গেলে এসব প্রতিষ্ঠান একত্রে আধুনিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে, যা তাদের টিকে থাকা ও রফতানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

তিনি আরো বলেন, একসময় চট্টগ্রামে প্রায় ৭০০টি গার্মেন্ট কারখানা থাকলেও বর্তমানে তা কমে ৩০০-এ নেমে এসেছে। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও এ অঞ্চলে পোশাক শিল্পের অংশগ্রহণ হ্রাস পাওয়া উদ্বেগজনক। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ২-৩ একর করে জমি বরাদ্দ দিয়ে বিজিএমইএ, ব্যাংক, বন্ডসহ সংশ্লিষ্ট সবাই স্টেকহোল্ডারের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কমপ্লায়েন্স জোন গড়ে তোলা গেলে দেশীয় উদ্যোক্তারা আরো শক্তভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।