এফ এ আলমগীর চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মাথাভাঙ্গা নদীবেষ্টিত গ্রামগুলোতে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পেকিন জাতের হাঁস পালন। গোশত উৎপাদনের জন্য বিশ্বখ্যাত এ জাতের হাঁস খামারিদের আয়ের নতুন উৎস হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রান্তিক নারী ও যুব উদ্যোক্তারা এ খাতে যুক্ত হয়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
উপজেলার পারকৃষ্ণপুর, কালিদাসপুর, বেষ্টপুর, গোবিন্দহুদা ও বিষ্ণুপুর গ্রামের বিভিন্ন খামারে এখন দেখা মিলছে সাদা ধবধবে পেকিন জাতের হাঁস। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় গড়ে ওঠা এসব খামার স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।
গোবিন্দহুদা গ্রামের লতিফা খাতুন জানান, ১৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫২টি হাঁসের ছানা ক্রয় করে খামার শুরু করেন তিনি। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকার হাঁস বিক্রি করেছেন তিনি। বর্তমানে তার কাছে থাকা বাকি হাঁসগুলো বিক্রি করলে তার আরো লাভ হবে।
একই গ্রামের ডলি খাতুন বলেন, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ৫০টি হাঁস পেয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে ২০টি হাঁস বিক্রি করে আয় করেছেন। বাকি হাঁসগুলোও বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছে। তার ভাষ্য, এলাকার আরো কয়েকজন নারী একইভাবে হাঁস পালন করে লাভবান হচ্ছেন।
বেষ্টপুর গ্রামের কলেজশিক্ষার্থী জিহাদও পড়াশোনার পাশাপাশি হাঁস পালন করে আয় করছেন। এ ছাড়া তারা, মনি ও আদুরী খাতুনের মতো আরো অনেক নারী উদ্যোক্তা পেকিন হাঁস পালন করে সফলতা পেয়েছেন।
খামারিরা জানান, মাত্র ৮০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পেকিন হাঁস বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। তিন মাসে একটি হাঁসের ওজন সাড়ে তিন কেজি পর্যন্ত হয়। বাজারে এর গোশতের চাহিদা ও দাম দু’টিই ভালো থাকায় লাভের সুযোগ বেশি।
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আবু সুফিয়ান খান বলেন, প্রকল্পের আওতায় ১৫ জন খামারিকে ৫০টি করে হাঁসের বাচ্চা, খাদ্য, টিকাদান, প্রশিক্ষণ ও খামার তৈরির সহায়তা দেয়া হয়েছে। এতে তারা স্বল্প সময়ে ভালো মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছেন।
দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নীলিমা আক্তার হ্যাপি বলেন, পেকিন হাঁস পালন গ্রামীণ নারী ও যুবকদের জন্য সম্ভাবনাময় আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেলে আরো অনেক উদ্যোক্তা এ খাতে যুক্ত হতে পারবেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।



