বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জন্য পাঁচটি রিভারাইন প্যাট্রল ভেসেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে এক হাজার ২১২ কোটি টাকা। এ ছাড়াও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত দু’টি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দু’টি প্রস্তাব করেছিল।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘প্রতিস্থাপক জাহাজ সংগ্রহ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি রিভারাইন প্যাট্রল ভেসেল ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২১১ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা।
জানা গেছে, এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে আহ্বান করা তিনটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে, যার মধ্যে দু’টি কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হয়। পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী যৌথভাবে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড এবং কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডকে জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদানের অনুমোদন দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, কোস্টগার্ডের রিভারাইন প্যাট্রল স্কোয়াড্রনের বর্তমান পাঁচটি জাহাজ ১৯৭০ সালে নির্মিত। এসব জাহাজের বয়স ৫৪ বছরের বেশি, যেখানে এ ধরনের জাহাজের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ২০ থেকে ২৫ বছর।
এ দিকে বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন এনটিএমসির জন্য ‘কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং সিস্টেম সম্প্রসারণ (প্রথম ধাপ)’ শীর্ষক প্রকল্পের ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪ কোটি ৯০ লাখ ৫১ হাজার ১৩৭ টাকা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, অতিসংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিসেবে সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে ৯টি যোগ্য প্রতিষ্ঠানের কাছে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে, যার মধ্যে দু’টি প্রতিষ্ঠান কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ঢাকার গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসিকে কার্যাদেশ দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি পরবর্তী প্রজন্মের ফায়ারওয়াল যন্ত্র, দু’টি বহুমুখী হাইব্রিড প্যাকেট নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, তিনটি সুইচ ব্যবস্থাপনা কার্ড এবং ছয়টি তথ্যকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনা হবে।
২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল ও ২০ হাজার টন মসুর ডাল কেনা হচ্ছে
এ দিকে দেশের স্বল্প আয়ের ও টিসিবির কার্ডধারী মানুষের মাঝে সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত (জাতীয়) দরপত্রের মাধ্যমে দুই কোটি লিটার ভোজ্যতেল এবং ২০ হাজার টন মসুর ডাল ক্রয় করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চারটি পৃথক প্রস্তাবে এসব পণ্য কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৫৩১ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
সভা সূত্রে জানা যায়, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল ক্রয়ের জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৪টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ভোজ্যতেল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ কোটি লিটার। ইতোমধ্যে ক্রয়ের পরিমাণ ১৩ কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৪০০ লিটার।
সভায় টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১০ হাজার টন মসুর ডাল ক্রয়ের জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে চারটি দরপত্র জমা পড়ে। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ঢাকা।
প্রতি কেজি ডাল ৮৪.৭৭ টাকা হিসেবে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয়ে সর্বমোট ব্যয় হবে ৮৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। কমিটি প্রস্তাবটিতে অনুমোদন দিয়েছে।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মসুর ডাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৩০ হাজার মেট্রিকটন। ইতোমধ্যে ক্রয়ের পরিমাণ এক লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ মেট্রিকটন।
সভায় টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে এক কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন (২ লিটার পেট বোতলে) ক্রয়ের জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে দু’টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। দু’টি প্রস্তাবই টিইসি কর্তৃক রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।



