নেশার টাকা ও যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন ছাত্রদল নেতার

Printed Edition

রংপুর ব্যুরো

প্রেমের সম্পর্ক গড়ে প্রতারণার পর বাধ্য হয়ে বিয়ে করলেও, স্ত্রীর ওপর যৌতুক ও নেশার টাকার জন্য শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির বিরুদ্ধে। এই নির্যাতনের প্রতিকার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে গত সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জেবিন।

লিখিত আবেদনে জেবিন উল্লেখ করেন, বাপ্পি তার সাথে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ে না করে প্রতারণা করে আসছিলেন। বিষয়টি পরিবারের পরামর্শে তাজহাট থানায় লিখিত অভিযোগ আকারে জানালে, আইনি মামলা এড়াতে গত ২৬ মার্চ বাপ্পি তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। তবে বিয়ের পর থেকেই বাপ্পি কোনো কাজকর্ম না করে সম্পূর্ণভাবে জেবিনের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং জোরপূর্বক টাকা নিয়ে নেশা করতে শুরু করেন। নেশার টাকা না দিলে জেবিনকে প্রায়ই মারধর করা হতো। এ ছাড়া বাপ্পির পরিবার থেকে মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করা হয়েছে এবং দাবি পূরণ না হলে বাপ্পির পরিবার তাকে মেনে নেবে না বলে ঘরে আটকে রেখে মারধর করে। এই নির্যাতনের কথা কাউকে জানালে জেবিনকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ফেরদৌস রহমানকে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। তবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া সফররত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এম শওকত আলী জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর লিখিত আবেদনটি তারা পেয়েছেন। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ পারিবারিক হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি কিছু করার না থাকলেও প্রশাসন এটি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে প্রচলিত আইনে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

অন্য দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এটি অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় বিয়ে হওয়ায় হয়তো কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ছেলে হোক বা মেয়ে, কেউ প্রতারণা করলে তার শাস্তি হওয়া উচিত।

এ দিকে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মাইদুল ইসলাম বাপ্পি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, জেবিন তার বিবাহিত স্ত্রী এবং এটি সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ক্ষতি করতেই এই মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করা হয়েছে।