দুর্ভোগের প্রতীক দৌলতপুর-শাহপুর সড়ক

Printed Edition

আনোয়ার হোসেন আকুঞ্জী ডুমুরিয়া (খুলনা)

‘আর কত দুর্ভোগ পোহাতে হবে? দেশে কি এমপি-মন্ত্রী নেই? কবে ঠিক হবে এই রাস্তা?’ ক্ষোভ আর অসহায়ত্ব মিশিয়ে কথাগুলো বলছিলেন শাহপুর থেকে দৌলতপুরগামী মাহেন্দ্রর যাত্রী জরিনা বেগম (৬৫)। ভাঙাচোরা সড়কের তীব্র ঝাঁকুনিতে নাভিশ্বাস উঠছিল তার। এই দুর্ভোগ শুধু তার একার নয়, খুলনা-দৌলতপুর-শাহপুর-চুকনগর সড়ক দিয়ে চলাচলকারী লাখো মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা এটি।

একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ সড়কটি এখন বড় বড় গর্ত আর ওঠে যাওয়া পিচে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টিতে কাদা-পানি আর রোদে ধুলার ঝড়ে অতিষ্ঠ যাত্রী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়রা জানান, ৯০’-এর দশকে নির্মিত সড়কটির শলুয়া থেকে শোলগাতিয়া অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। শাহপুর ও চুকনগর অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় এখানে দিন-রাত যানবাহনের চাপ থাকে। বর্ষায় কাদার নিচে গর্ত লুকিয়ে থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। জরুরি ভিত্তিতে গর্তগুলো ভরাট করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, শাহপুর বাজার থেকে থুকড়া পর্যন্ত আংশিক সংস্কারের জন্য গত অর্থবছরে দুই কোটি ২২ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অনিক এন্টারপ্রাইজ’ নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। খুলনা সড়ক বিভাগসূত্রে জানা গেছে, থুকড়া থেকে আড়ংঘাটা পর্যন্ত অংশের জন্য নতুন টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, যার দরপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ২৩ জুলাই। ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী দারুল হুদা কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।

শাহপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম বাবলু জানান, কাজ শেষ হতে আরো কয়েক মাস লাগবে, ফলে বর্ষায় দুর্ভোগ কাটছে না। রঘুনাথপুর ফ্রেন্ডস ওয়েলফেয়ার ক্লিনিকের পরিচালক ডা: হরিদাস মণ্ডল এবং বিএনপি নেতা আব্দুর রব আকুঞ্জী দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান। খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আজগর লবি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি, দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।