মধুপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া ইউনিয়নে নির্মাণাধীন একটি সড়ক রক্ষায় নদীর তীরে নির্মিত প্যালাসেডিং ও ব্লক বসানোর কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই ধসে পড়েছে। এতে পুরো সড়ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজ, ঠিকাদারের গাফিলতি ও প্রকৌশলীদের তদারকির অভাবেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাটি উপজেলার চাপড়ী-জয়নাতলী-বেতবাড়ী মোড় সড়কের মলকা এলাকায় বংশাই নদীর পূর্ব পাড়ে। সেখানে নদীভাঙন রোধে গাইডওয়াল ও প্যালাসেডিংয়ের মাধ্যমে ব্লক বসানো হয়েছিল। তবে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ২০০ মিটার অংশ ধসে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুনিয়া-মলকা সড়কের জয়নাতলী মোড় থেকে চাপড়ী-বেতবাড়ী মোড় পর্যন্ত ২ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে অনুমোদন পায়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল দুই কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং চুক্তিমূল্য প্রায় এক কোটি ৯৯ লাখ টাকা। জামালপুরের সরিষাবাড়ির মেসার্স মিতু ট্রেডার্স কাজটি পায়। প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি নদীর পাড় রক্ষায় ব্লক বসানোর কাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘসূত্রতার পর চলতি বছরের শুরুতে সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে পুনরায় কাজ শুরু হয় এবং গত ৩০ এপ্রিল কাজ শেষ করা হয়। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ শেষের ১৫ দিনের মধ্যেই ব্লক ধসে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাইদ দুখু বলেন, ‘ঠিকাদারকে ভালো মানের বালি, পাথর ও সিমেন্ট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা মানেনি।’ বেতবাড়ী গ্রামের হাতেম আলী মুন্সি অভিযোগ করেন, ‘ইঞ্জিনিয়ারদের বিষয়টি জানানো হলেও তারা গুরুত্ব দেননি।’
অভিযোগ অস্বীকার করে সাব-ঠিকাদার লিচু মিয়া বলেন, ‘অসময়ে পানি বৃদ্ধি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্লকের নিচ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় ধস নেমেছে। দ্রুত মেরামত করা হবে।’
উপসহকারী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীতে পানি বাড়ার কারণে এমন হতে পারে। তবে ঠিকাদারের সাথে এক বছরের চুক্তি রয়েছে। তারা নিজ দায়িত্বে মেরামত করবে।’
উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।



