নাব্যতা হােিয় খালে পরিণত হচ্ছে ডাকাতিয়া

দখল-দূষণে বিপর্যস্ত নদী, কৃষি ও নৌপথে বাড়ছে সঙ্কট

Printed Edition
সঙ্কীর্ণ হয়ে আসা ডাকাতিয়া নদী। সুবিদপুর থেকে তোলা	  : নয়া দিগন্ত
সঙ্কীর্ণ হয়ে আসা ডাকাতিয়া নদী। সুবিদপুর থেকে তোলা : নয়া দিগন্ত

সাইফুল ইসলাম সিফাত হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর)

অবৈধ দখল, দূষণ, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন ও পলি জমে নাব্যতা হারিয়ে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে চাঁদপুর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদী ডাকাতিয়া। একসময় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নৌপথ যোগাযোগ ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত নদীটি এখন অনেক স্থানে খালে পরিণত হয়েছে। নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে ডুবোচর, ব্যাহত হচ্ছে নৌযান চলাচল, বাড়ছে কৃষি ও জনদুর্ভোগ।

ভারতের ত্রিপুরা থেকে উৎপত্তি হয়ে কুমিল্লার লাকসাম অতিক্রম করে প্রায় ২০২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চাঁদপুরে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে ডাকাতিয়া। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই দশক আগেও এই নদীপথে পালতোলা নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে নিয়মিত পণ্য পরিবহন হতো। সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত থাকায় কৃষিপণ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম ভরসা ছিল এই নদী।

সরেজমিন দেখা যায়, চাঁদপুর শহরের তিন নদীর মোহনা থেকে শুরু করে সদর উপজেলার ইচলী, বাগাদী, মৈশাদী, শাহ মাহমুদপুর ও রামপুর, ফরিদগঞ্জের বালিথুবা ও সুবিদপুর, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তির বিভিন্ন এলাকায় নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, বসতঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা। কোথাও কোথাও নদীর অংশ ভরাট করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।

এ দিকে নদীতে অপরিশোধিত বর্জ্য, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলার কারণে দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পলি নদীর তলদেশে জমে ছোট ছোট চর সৃষ্টি করছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানিও থাকে না। এর প্রভাব পড়ছে কৃষিতেও। ইরি-বোরো মৌসুমে সেচের পানির সঙ্কটে পড়ছেন হাজারো কৃষক। অনেকে বাড়তি খরচে বিকল্প উপায়ে পানি তুলতে বাধ্য হচ্ছেন।

পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ডাকাতিয়া শুধু একটি নদী নয়, এটি এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও নৌবাণিজ্যের ঐতিহ্যের অংশ। দ্রুত পুনঃখনন, দখলদার উচ্ছেদ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নদীটি পুরোপুরি মৃতপ্রায় হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন সময়ে জরিপ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খনন কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, পরিকল্পনার চেয়ে এখন বেশি প্রয়োজন দ্রুত দৃশ্যমান উদ্যোগ।