ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ডায়রিয়াতে খাবার স্যালাইন

Printed Edition
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ডায়রিয়াতে খাবার স্যালাইন
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ডায়রিয়াতে খাবার স্যালাইন

ডা. আব্দুল হাফিজ

প্রায় সময় এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় যে, প্রেশারের রোগীরা খাবার স্যালাইন খেতে পারবেন কিনা? ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে শরীর পানি ও লবণ হারায়। খাওয়ার স্যালাইন সেই পানি-লবণের ঘাটতি পূরণ করে। খাবার স্যালাইনে (ORS) এ নি¤œলিখিত উপাদান নির্দিষ্ট পরিমাণে থাকে :

১. পানি

২. সোডিয়াম

৩. পটাশিয়াম ও

৪. গ্লুকোজ বা শর্করা

এই সোডিয়াম (লবণ) এবং গ্লুকোজ থাকায় অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের রোগীরা এই খাওয়ার স্যালাইন খাবেন কি-না, তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন।

কেননা উচ্চ চাপের বা প্রেশারের রোগীদের লবণ কম খেতে বলা হয়। পাশাপাশি ডায়াবেটিসের রোগীদের গ্লুকোজ বা চিনি খেতেও নিষেধ করেন। কিন্তু খাওয়ার স্যালাইনের প্যাকেটে তো লবণ ও গ্লুকোজের মিশ্রণ থাকে।

খাবার স্যালাইনে থাকা গ্লুকোজের প্রধান কাজ পেঠের অন্ত্রে লবণ শোষণে সাহায্য করা। প্রতি লিটার খাওয়ার স্যালাইনে গ্লুকোজের পরিমাণ ২০ গ্রামের বেশি নয় এবং এর প্রায় পুরোটাই আমাদের অন্ত্রে শোষণে ব্যবহৃত হয়। তাই ডায়রিয়ায় স্যালাইন খেলে ডায়াবেটিসের রোগীর রক্তে শর্করা বাড়বে- এমন ধারণা ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে স্যালাইন মূলত লবণের ঘাটতি পূরণ করার কাজে ভূমিকা রাখে। শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখতে লবণের ভারসাম্য রক্ষা করাটা খুবই জরুরি। আর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে আমরা প্রচুর লবণ হারাই। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীরও ডায়রিয়া হলে স্যালাইন খেতে হবে, এতে লবণের আধিক্য হবে না বা রক্তচাপও বাড়বে না।

ডায়রিয়া হলে স্যালাইন খাওয়ার মাধ্যমে পানি-লবণের ঘাটতি দ্রুত পূরণ না করলে শরীর পানি ও লবণের অভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়বে। পানিশূন্যতা থেকে কিডনি অকার্যকারিতাও হতে পারে। যেসব ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীর আগে থেকেই কিডনির সমস্যায় ভোগার ইতিহাস থাকে, ডায়রিয়ায় তাদের আরো বেশি জটিলতা হতে পারে। তাই ডায়রিয়া হলে পানিশূন্যতা রোধ করতে বয়সভেদে অবশ্যই খাবার স্যালাইন খেতে হবে। এ নিয়ে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অবকাশ নেই। ডায়াবেটিসের রোগীরা সেই সাথে প্রয়োজন অনুযায়ী বাসায় রক্তে শর্করার মাত্রা (RBS) পরীক্ষা করে দেখবেন ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা রক্তচাপ মাপাবেন এই সময়ে।

লেখক : নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ; সিলেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল