সিলেট ব্যুরো
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আগামীতে উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে ইমামদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ইমামরা তদারকিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলে সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সমাজের মানুষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেদের মালিকানা অনুভব করবে।
গতকাল সিলেট নগরীর সারদা হলে সিলেট সিটি কাপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত মহানগরীর মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইমামদের কল্যাণে সরকার দু’টি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো ইমামদের মর্যাদা রক্ষায় ব্যক্তিগত ইচ্ছায় নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতি রোধে রাষ্ট্র স্বীকৃত একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি ইমামদের জন্য এমন সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে চার থেকে ছয় সদস্যের একটি পরিবার স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমান সিসিক প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন। আগামী দিনে সিসিকে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটবে। সিসিকের আওতাধীন সব সড়ক এ-গ্রেডে উন্নীত করা হবে।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিভাগীয় কমিশনার খান মো: রেজা-উন-নবী এবং সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগরীর ৮২৭টি মসজিদের ১ হাজার ৬৪ জন ইমাম এবং ১ হাজার ২১১ জন মুয়াজ্জিনকে মধ্যে মোট ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী দেয়া হয়।
চম্পাতলী খাল খনন উদ্বোধন
এ দিকে মন্ত্রী বলেছেন, সিলেট মূলত এক ফসলি এলাকা। শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধার অভাব এবং কিছু কৃষিজমি পানিতে ডুবে থাকায় কৃষকেরা বাড়তি ফসল উৎপাদন করতে পারেন না। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এ দুই সমস্যার সমাধান হবে এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ বিঘা জমি নতুন করে চাষের আওতায় আসবে। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। ফলে খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে বর্ধিত ফসল উৎপাদন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং বৃক্ষরোপণের সুফল এ অঞ্চলের মানুষ প্রথম বছর থেকেই পেতে শুরু করবে।
গতকাল সকালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় চম্পাতলী খাল খননের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারি দফতরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



