সিলেট ব্যুরো
হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ নেতা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। গতকাল বিকেলে কানাইঘাটে নিজের প্রতিষ্ঠিত জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে তার নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন একমাত্র ছেলে নাজমুস সাকিব চৌধুরী।
নামাজে জানাজায় কানাইঘাট জকিগঞ্জের হাজার হাজার শোকাভিভূতরা ছাড়াও সিলেট নগরীর শত শত মানুষ অনেক দূরের পথ মাড়িয়ে নামাজে জানাজায় শরিক হন। পরে নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা ক্যাম্পাসে তাকে দাফন করা হয়।
নামাজে জানাজা-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজাহারুল ইসলাম, সিলেট ৫ আসনের এমপি ও খেলাফত মজলিসের নেতা মুফতি মাওলানা আবুল হাসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও মরহুমের জামাতা ডক্টর এনামুল হক চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বেশ কিছুদিন আগে তাকে সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিলেট-৫ আসনের এমপি ছিলেন।
আমিরে জামায়াতের শোক
জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকালে গভীর শোক ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন দলের আমির ডা: শফিকুর রহমান।
এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, প্রিয় সম্মানিত মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১:৩০টার দিকে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার গোটা জীবনের সব নেক আমল কবুল করুন, তার প্রতি রহম ও গুনাহখাতা ক্ষমা করুন এবং তার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ও জান্নাতের উচ্চ দরজাহ দান করুন।
শোক বার্তায় ডা: শফিকুর রহমান আরো বলেন, যৌবনে হাতে গোনা যে দু-চারজন আল্লাহর বান্দাকে দেখে দ্বীনি আন্দোলনের পথে হাঁটা শিখেছিলাম, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী তাদের অন্যতম। ছাত্রজীবন থেকেই তাকে দ্বীনি ওস্তাদ হিসেবে পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। দ্বীনের ব্যাপারে তার গভীর জ্ঞান, দূরদৃষ্টি, সাংগঠনিক যোগ্যতা এবং সর্বোপরি দায়ী ইলাল্লাহ হিসেবে তিনি আমাদের কাছে একান্ত অনুকরণীয় এক মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার বিচরণক্ষেত্র ছিল পুরো সিলেট বিভাগজুড়ে। এক নামে তার সমসাময়িক সবাই তাকে চিনতেন। এমনকি তার আদর্শিক প্রতিপক্ষরাও তাকে অন্তর থেকে সম্মান করতেন।
জমিয়ত সভাপতির শোক : অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার খালাতো বড় ভাই, মাওলানা ফরীদ উদ্দিন চৌধুরী একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন। তিনি চরিত্র ও ব্যক্তিত্বে ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত একজন মানুষ।
সিলেট-৫ এর সাবেক এমপি ও অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি শিক্ষা, সমাজসেবা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজনৈতিক মতভিন্নতা সত্ত্বেও কখনোই তার সাথে আমাদের পারিবারিক ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক নষ্ট হয়নি। বরং সম্পর্কের জায়গায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সবসময় অটুট ছিল।



