বেশি বেশি টেস্ট খেলার দাবি শান্তর

Printed Edition
দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় এনে দেন তাইজুল ইসলাম। উইকেট নেয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন সতীর্থরা : নয়া দিগন্ত
দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় এনে দেন তাইজুল ইসলাম। উইকেট নেয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন সতীর্থরা : নয়া দিগন্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বছরে আর ক’টি টেস্টই খেলে বাংলাদেশ। ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৪১ টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। নিজেদের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ২০২২ এবং ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ ১০টি করে টেস্ট খেলেছে দলটি। এ বছরও সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। অথচ বছরে ১০-১৫টা টেস্ট খেলে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো। এই সংস্করণে উন্নতির জন্য বড় দলগুলোর মতো বেশি বেশি টেস্ট খেলার দাবি জানিয়ে রাখলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আইসিসির কাছে শান্তর চাওয়া, সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ দেয়া হোক বাংলাদেশকে।

শান্ত বলেন, ‘আমরা টেস্ট ম্যাচ খেলতে চাই। প্রত্যেকটা দলের সাথে খেলতে চাই। আমার মনে হয় যে, এখন অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ইন্ডিয়া এই দলগুলোর সাথেও বেশি বেশি টেস্ট খেলতে চাই, দেশে ও দেশের বাইরে দুই জায়গাতেই। কারণ আমি যেটা বললাম, আমরা যখন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব, ওই নতুন অভিজ্ঞতাগুলো যখন হবে, তখনই ধীরে ধীরে দল হিসেবে গড়ে উঠব।’

একই সাথে বড় দলগুলোর বিপক্ষে টেস্ট খেলার দাবি শান্তর, ‘একই দলের সাথে বারবার খেলা, একই কন্ডিশনে খেলা, এটাতে আসলে দল গড়ে তোলাটা কঠিন। তাই আশা থাকবে যে আইসিসি আমাদের বেশি বেশি সব দলের সাথে টেস্ট ম্যাচ দেবে। এখন আমরা বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি, এটা একটা ইতিবাচক দিক। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারতের সাথেও যদি আমরা আরও ভালোভাবে বেশি ম্যাচ খেলতে পারি, অবশ্যই এটা আমাদের দলের জন্য আরো ভালো হবে।’

৮ টেস্ট জয়ের কীর্তি

২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাইয়ের পর বাংলাদেশ পুনরাবৃত্তি করল ঘরের মাঠেও। সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টের পঞ্চম দিনে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। টেস্টে ২৬ বছরের ইতিহাসে জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার ম্যাচ জয়ের কীর্তি রয়েছে বাংলাদেশের। সিলেটে পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ ৮ টেস্ট জয়ের কীর্তি গড়লেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এত দিন এই তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন শান্ত ও মুশফিকুর রহীম। মুশফিকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জিতেছে ৭ টেস্ট।

শান্তর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৮ টেস্ট খেলে জিতেছে ৮ ম্যাচ। সফলতার হার ৪৪.৪৪ শতাংশ। মুশফিকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ খেলেছিল ৩৪ টেস্ট। সফলতার হার ২০.৫৯ শতাংশ। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে শতভাগ সফল হওয়ার রেকর্ড কেবল লিটন দাস ও মাশরাফি বিন মর্তুজার। তারা দু’জন অবশ্য অধিনায়ক ছিলেন এক টেস্ট।

পাকিস্তানকে টানা চার টেস্টে হারানোর আগেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। ২০১৩-১৪ সালে ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে জিম্বাবুয়েকে টানা চার টেস্টে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। যার মধ্যে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে ধবলধোলাই হয়েছিল জিম্বাবুয়ে।

২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে ১৫৮ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। জিতেছে ২৭ ম্যাচ, হেরেছে ১১২ ম্যাচ ও ড্র করেছে ১৯ ম্যাচ। দুই বা ততোধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হিসাব করলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তানকে দু’বার করে ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ।

বড় কৃতিত্ব লিটনের

প্রথম ইনিংসে দলের প্রবল চাপে অনবদ্য সেঞ্চুরি করেন লিটন দাস, দ্বিতীয় ইনিংসেও খেলেন গুরুত্বপূর্ণ ফিফটি। এর বাইরে উইকেটের পেছনে অসামান্য পারফরম্যান্স করতে দেখা গেছে বাংলাদেশের উইকেট কিপারকে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তাই এই টেস্ট জয়ের পেছনে ম্যাচসেরা লিটনকেই দিলেন সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব।

এই জয় পুরো দলের : মুশফিক

ঐতিহাসিক এই ধবলধোলাইয়ে সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছেন মুশফিকুর রহীম। তবে এই অর্জনের কৃতিত্ব পুরো দলকেই দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মুশফিক বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এটা অনেক বড় অর্জন। ছেলেরা এমন সাফল্য প্রাপ্য। গত কয়েক বছরে সবাই যেভাবে খেলেছে, এই কৃতিত্ব তাদেরই পাওনা।’

মুশফিক আরো বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে লিটন অসাধারণ খেলেছে। তার কারণেই আমরা ম্যাচে টিকে ছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম ৪৫০ এর বেশি রান করতে হবে। বোলাররা খুব ভালো জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করেছে। তাদেরও কৃতিত্ব দিতে হবে। তবে স্পেশালি তাইজুল যা করে দেখিয়েছে, সেটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’