ফিটনেসবিহীন যান বন্ধসহ নিরাপদ ঈদযাত্রায় সাংবাদিকদের সুপারিশ

Printed Edition

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিরাপদ ও নির্বিঘœ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের সুপারিশ জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে ‘রোডক্র্যাশ রোধে নিরাপদ ঈদযাত্রায় করণীয়’ শীর্ষক সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এই সুপারিশ জানানো হয়।

সভায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের রোড সেফটি প্রকল্পের সমন্বয়কারী শারমিন রহমান সরকারের প্রতি জরুরি কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি ২০২৬ সালে ঈদযাত্রায় রোডক্র্যাশ ও প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সড়ক নিরাপত্তার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। এই লক্ষ্যে মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর জোর দেয় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। এ ছাড়া ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সীমিত করা, স্পিডগানের ব্যবহার, টোল প্লাজায় দ্রুত ডিজিটাল বুথ চালু এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানানো হয়।

সভায় শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) সাধারণ সম্পাদক ও ইউএনবির বিশেষ প্রতিনিধি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম হাইওয়েতে রোডক্র্যাশ কমাতে পর্যাপ্ত হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েনসহ বাসটার্মিনাল থেকেই যেন ফিটনেসবিহীন বাস বের হতে না পারে, সেই ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।

দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহ্ছান শিপু বলেন, ঈদের সময় টোলপ্লাজা ও ব্রিজের ওপর গাড়ির লম্বা লাইনের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। এই যানজট নিরসনে টোলপ্লাজায় বুথ বাড়ানো দরকার।

দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম বলেন, সড়ক পরিবহন আইনে কিছু দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে রোডক্র্যাশ কমিয়ে আনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

জাগোনিউজ২৪ ডটকমের প্রতিবেদক তৌহিদুজ্জামান তন্ময় গণমাধ্যমে রোডক্র্যাশের সংবাদের পাশাপাশি দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান এবং এর ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভার সঞ্চালক দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম) শুভ্র দেব বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক সংস্থা বা ব্যক্তির নয়, এটি সবার দায়িত্ব। এই সমন্বিত উদ্যোগে গণমাধ্যমকেও অংশ হতে হবে।

সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, চালকসহ সর্বোচ্চ দু’জন আরোহী নিশ্চিত করা, বেপরোয়া লেন পরিবর্তন রোধ ও বাম পাশের লেন মোটরসাইকেলের জন্য সুনির্দিষ্ট করাসহ ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করেন। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ‘সেইফ সিস্টেম’-এর আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন যত দ্রুত প্রণয়ন ও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা যাবে, সরকারের পক্ষে সড়কের বিশৃঙ্খলা রোধ করা তত দ্রুত সম্ভব হবে। বিজ্ঞপ্তি।