খুলনা ব্যুরো
খুলনা ওয়াসায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আশীর্বাদে প্রকল্পে অস্থায়ী নিয়োগ এবং প্রকল্প শেষের আগেই রাজস্ব খাতে স্থায়ী নিয়োগ লাভ করেছিলেন তারা। দায়িত্ব পালনকালে ওয়াসার চারটি জোন থেকে ১৬০০ পানির মিটার চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তারা অভিযুক্তও। এত কিছুর পরও এসব কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ (সোমবার) বোর্ড সভায় উঠছে প্রস্তাব। এ নিয়ে ওয়াসার ভেতরে-বাইরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খুলনা ওয়াসা সূত্রানুযায়ী, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সীর (জাইকা) আর্থিক সহযোগিতায় দুই হাজার ৫৫১ কোটি ব্যয়ে ২০১১-২০১৯ সাল মেয়াদে খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। ২০১১ সালে ওই প্রকল্পে খান সেলিম আহম্মদকে প্রকল্প ব্যবস্থাপক/তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, কামাল হোসেন ও আরমান সিদ্দিকীকে নির্বাহী প্রকৌশলী, মোস্তাফিজুর রহমান, চিন্ময় কুমার বৈদ্য ও মাহবুবুর রহমান শামীমকে উপসহকারী প্রকৌশলীসহ আরো কিছু কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। আওয়ামী আমলের দস্তুর অনুযায়ী নিয়োগের সময় এসব কর্মকর্তার সুপারিশপত্রে স্পষ্টভাবে ‘আওয়ামী লীগ পরিবারের লোক’ হিসেবে উল্লেখ ছিল বলে অভিযোগ আছে। বোর্ড মিটিংয়ে এসব কর্মকর্তাসহ ১০ জনের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর ও স্থায়ী করার সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে ২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৯ জনের স্থায়ী নিয়োগ অনুমোদন হয়। আওয়ামী সরকারের সময় ওয়াসার মেগা প্রকল্পগুলো তাদের মাধ্যমেই পরিচালিত হতো। আওয়ামী সরকার পতনের পরও ওই সিন্ডিকেটই বহালতবিয়তে রয়েছে এবং আজ বিশেষ পদোন্নতির মাধ্যমে তাদের পুরস্কৃত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হতে পারে।
পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খান সেলিম আহাম্মদকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। পানি সরবরাহ প্রকল্পের পিডি হিসেবে তিনি ওয়াসার তৎকালীন এমডি অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার আবদুল্লাহ পিইঞ্জের সাথে মিলে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মোহাম্মদ আরমান সিদ্দিকী মিটার চুরির তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময়েও তদন্ত রিপোর্ট জমা দেননি এবং প্রকৃত দোষীদের আড়াল করে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে উন্নীত করা হবে।
কামাল হোসেনকেও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা রফিকুল আলম সরদার খুলনা ওয়াসায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চলতেন। তার জোন থেকে ৬০০ মিটার চুরি হলেও তাকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। ভাণ্ডার কর্মকর্তা বিপ্লব মজুমদার মিটার চুরির অন্যতম হোতা বলে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওয়াসার ১৬০০ মিটার শুধু যে চুরি হয়েছে তা নয়, প্রতিটি মিটারে গড়ে এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি পানির বিল বকেয়া ছিল। সেই বকেয়া বিলের রেকর্ড নষ্ট করতেই মিটারগুলো ‘গায়েব’ বা চুরি দেখানো হয়েছে। এতে ওয়াসার কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে কেন পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে, তা নিয়ে খুলনা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকেফহাল সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমর বালার সাথে কথা হলে তিনি জানান, রোববার ঢাকায় অনুষ্ঠিত বোর্ডের সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। সোমবার ৬ সদস্যের কমিটির সামনে পদোন্নতির জন্য সুপারিশপ্রাপ্তদের কাগজপত্র বিবেচনার্থে উত্থাপিত হবে। কমিটি সব কিছু দেখে সিদ্ধান্ত নেবে।



