মুসলমানদের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম ছিল বালাকোট : মাওলানা এ টি এম মা’ছুম

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইতিহাসে যেসব ঘটনা প্রবাহ মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ এবং একই সাথে নৈতিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে উজ্জীবিত রাখতে ক্রিয়াশীল এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করে ১৮৩১ সালের ৬ মে’র ঐতিহাসিক বালাকোট যুদ্ধ তার অন্যতম বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম।

গতকাল রাজধানীর বারিধারায় মহানগরী অফিস চত্বরে ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত ‘বালাকোট দিবস’-এর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন- উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা: ফখরুদ্দীন মানিক ও ইয়াছিন আরাফাত, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য জামাল উদ্দীন প্রমুখ।

মাওলানা মা’ছুম বলেন, সাড়ে পাঁচ শ’ বছর ভারত শাসনের পর মুসলিম শাসকদের নৈতিক অধঃপতন শুরু হয়। তাওহিদ, রেসালত, আখেরাত, ইসলামী সমাজ-সংস্কৃতি নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে বিস্তর মতভেদ দেখা দেয়। একইসাথে মুসলিম সমাজে শিরক-বিদাতের বিস্তৃতি ঘটে ব্যাপকভাবে। সঙ্গত কারণেই তখন হিন্দু-মুসলিম পার্থক্য করা একেবারেই সহজসাধ্য ছিল না। শাসকগোষ্ঠী এতোই ভোগ-বিলাসী হয়ে উঠেছিলেন যে, ইংরেজরা দেশ দখল করে নিলেও তারা হেরেম থেকে বের হওয়ার ফুরসৎ পেতেন না। সে ধারাবাহিকতায় ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধে নবাব সিরাজের পতন এবং ১৭৯৯ সালে টিপু সুলতানকে ইংরেজরা হত্যা করে। ১৮০৫ সালে ইংরেজরা দিল্লি দখল করে নেয়। এ ষড়যন্ত্রে হিন্দু, শিখ, মারাঠা ও একশ্রেণীর দালাল মুসলমান জমিদাররাও জড়িত ছিলেন।

তিনি বলেন, এমন দুর্দিনে শাহ ওয়ালীউল্লাহ মোহাদ্দেসে দেহলভী মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু তিনি তার স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে যেতে পারেনি। তার ইন্তেকালের পর চার সন্তান এ কাজে যোগ্যতর আঞ্জাম দিয়ে গেছেন। এক পর্যায়ে শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দেসে দেহলভী একটি বিপ্লবী ফতোয়া জারি করে বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশ ‘দারুল হরব’। তাই এখানে জিহাদ করা প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য ফরজ। এ ফতোয়ার পর ভারতীয় মুসলমান সমাজে জিহাদী জজবা সৃষ্টি হয়। এ কাজে যোগ্য নেতৃত্ব দেন সাইয়েদ আহমদ বেরলভি, মাওলানা আব্দুল হাই, মাওলানা ইসমাঈল শহীদ। ১৮৩১ সালের ৬ মে মহারাজা রঞ্জিত সিং ও সাইয়েদ আহমাদ বেরলভি বাহিনীর মধ্যে বালাকোটের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে শিখ সৈন্যরা সাইয়েদ আহমাদ বেরলভির শিরোচ্ছেদ করে। এ যুদ্ধে মুসলমানরা বিজয়ী না হলেও তা মুসলিম উম্মাহর প্রেরণার উৎস। তিনি বালাকোটের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামী দিনে নিজেদের করণীয় নির্ধারণ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।