ভারতের তৃতীয় না নিউজিল্যান্ডের প্রথম

টি-২০ বিশ^কাপের ফাইনাল আজ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আজ পর্দা নামছে টি-২০ বিশ্বকাপ দশম আসরের। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিউজিল্যান্ডকে কখনো হারাতে পারেনি ভারত। তিন ম্যাচের সবগুলোই জয় পায় নিউজিল্যান্ড। পরিসংখ্যানের বিচারে এগিয়ে থেকেই আজ টি-২০ বিশ্বকাপের দশম আসরের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামবে নিউজিল্যান্ড। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ মঞ্চে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। তিনবারই জিতেছে কিউইরা। ব্লকবাস্টার ফাইনালে আজ আহমেদাবাদে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ভারত ও নিউজিল্যান্ড।

টি-২০তে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয়ের পাল্লাই ভারী। ৩০ বারের দেখায় ভারত ১৬টিতে জিতেছে। নিউজিল্যান্ডের জয় ১১টিতে। তিনটি ম্যাচ টাই হয়। টাই হওয়া ম্যাচের মধ্যে দু’টিতে সুপার ওভারে জয় পায় ভারত। অন্যটি বৃষ্টি আইনে রান সমান হওয়ায় টাই হয়। তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে বিশ্বরেকর্ড গড়তে চায় টিম ইন্ডিয়া। এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে সর্বোচ্চ দু’বার করে শিরোপা জিতেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। অন্য দিকে দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলতে নামা নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য- প্রথমবারের মতো টি-২০ বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলা।

গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচের সব এবং সুপার এইট পর্বে তিন ম্যাচ খেলে দু’টিতে জয় পায় ভারত। সুপার এইটে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে সেমিফাইনালে নাম খেলায় টিম ইন্ডিয়া। সেমিতে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে ভারত। মুম্বাইয়ে সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করে ভারত। দলের হয়ে আটটি চার ও সাতটি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেন ওপেনার সঞ্জু স্যামসন। জবাবে জ্যাকব বেথেলের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে দুর্দান্ত লড়াই করে ম্যাচ হারে ইংল্যান্ড। ৭ উইকেটে ২৪৬ রান তুলে ইংলিশরা। ৮টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৪৮ বলে ১০৫ রান করেন বেথেল।

২০০৭ সালে প্রথম বিশ্বকাপেই বাজিমাত করেছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ রানে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলে টিম ইন্ডিয়া। ২০১৪ সালেও শিরোপা জয়ের সুযোগ পেয়েছিল ভারত। কিন্তু ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬ উইকেটে হেরে যায়। এরপর ১০ বছর পর গত বিশ্বকাপের ফাইনালে আর ভুল করেনি ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠ ব্রিজটাউনের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ রানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে। এতে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড স্পর্শ করে টিম ইন্ডিয়া। ইংল্যান্ড ২০১০ ও ২০২২ সালে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০১২ ও ২০১৬ সালে শিরোপার স্বাদ নিয়েছিল।

এবার ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ছাড়িয়ে বিশ্বরেকর্ডের সামনে ভারত। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ, ‘আমাদের সামনে রেকর্ড তৃতীয় শিরোপা জয়ের সেরা সুযোগ। এ সুযোগ আমরা হাতছাড়া করতে চাই না এবং আশা করি কেউই চাইবে না। নিজেদের মাটিতে খেলা। দলের কেউই চায় না শিরোপাটা অন্য কারো শোকেচে শোভা পাক। দল হিসেবে আমরা এখন পর্যন্ত দারুণ ক্রিকেট খেলেছি। পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই এবং ফাইনালে আরো একবার নিজেদের সেরাটা উজাড় করে নিজেদের কাছেই শিরোপা রেখে রেকর্ড করতে চাই।’

টি-২০ পরিসংখ্যানে এর আগে একবার মাত্র ফাইনালে উঠেছিল টিম নিউজিল্যান্ড। ২০২১ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৮ উইকেটে হেরে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাদের। নিজেদের টি-২০ ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার স্মৃতিকে অবিস্মরণীয় করে রাখতে চায় কিউইরা। সংক্ষিপ্ত ভার্সনের ক্রিকেটে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরতে মরিয়া কিউইরা। প্রথমবারের মতো শিরোপা ঘরে তুলতে নিউজিল্যান্ড দল বদ্ধপরিকর।

দলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত টি-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারিনি, এটি খুবই হতাশার। একবার কাছে গিয়ে ঘুরে এসেছি। ভাগ্য সহায় হয়নি। তবে এবার শিরোপা জয়ের আনন্দে মাততে চাই। তবে ফাইনাল সহজ হবে না। ভারতের বিপক্ষে তাদেরই কন্ডিশনে যেকোনো ম্যাচ খেলাই চ্যালেঞ্জিং। তবে নিজেদের সেরাটা দিয়ে ভারতীয় একচেটিয়া দর্শকদের সামনে থেকে শিরোপা জয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে।

গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জিতে সুপার এইটে উঠে নিউজিল্যান্ড। সুপার এইটে ৩ ম্যাচ খেলে ১টি করে জয়-হার ও পরিত্যক্ত ম্যাচের কারণে ৩ পয়েন্ট পায় তারা। একই চিত্র ছিল পাকিস্তানেরও। কিন্তু রান রেটে এগিয়ে থাকায় সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় নিউজিল্যান্ড। সেমিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে নেমে কাগজের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেয় নিউজিল্যান্ড। ফিন অ্যালেনের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ফেভারিট দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে হারায় কিউইরা। দক্ষিণ আফ্রিকার ছুড়ে দেয়া ১৭০ রানের টাগের্ট ৪৩ বল হাতে রেখেই স্পর্শ করে নিউজিল্যান্ড। ৩৩ বলে ১০ চার ও ৮ ছক্কায় অপরাজিত ১০০ রান করেন অ্যালেন। ফাইনালেও আরো একবার অ্যালেন শো দেখার প্রত্যাশায় নিউজিল্যান্ড।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের কাছে কখনো হারেনি নিউজিল্যান্ড।

২০০৭ সালে প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপেই দেখা হয় ভারত ও নিউজিল্যান্ডের। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ড্যানিয়েল ভেট্টোরির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ভারতকে ১০ রানে হারায় নিউজিল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৯০ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৩৫ বলে ৭৬ রানের সূচনার পরও ৯ উইকেটে ১৮০ রানের বেশি করতে পারেনি ভারত। ৫ বলে ১৫ রান এবং ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন ভেট্টোরি।

২০০৯ সালের বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের দেখায় নাগপুরের সুপার টেনের ম্যাচে তিন স্পিনার মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি ও ন্যাথান ম্যাককালামের বোলিং নৈপুণ্যে ভারতকে ৪৭ রানে হারায় কিউইরা। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৬ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে নিউজিল্যান্ডের তিন স্পিনারের ঘূর্ণিতে পড়ে ১৮.১ ওভারে ৭৯ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। স্যান্টনার ১১ রানে ৪টি, সোধি ১৮ রানে ৩টি ও ম্যাককালাম ১৫ রানে ২ উইকেট নেন।

২০২১ বিশ্বকাপে তৃতীয়ারের দেখায় দুবাইয়ে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১১০ রান করে ভারত। ১১১ রানের টার্গেট সহজেই স্পর্শ করে ফেলে নিউজিল্যান্ড। ৩৩ বল বাকি রেখে ৮ উইকেটে জয় পায় কিউইরা।