রফিকুল হায়দার ফরহাদ
দুই বছর ধরেই মোহামেডানের রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকা। এবারো প্রথম একাদশে সুযোগম মিলছিল না। শেষ পর্যন্ত কোচ আলফাজ আহমেদ বরখাস্ত হওয়ার পর নতুন কোচ আবদুল কাইয়ুম সেন্টু খেলাতে থাকেন সৌরভ দেওয়ানকে। আর সুযোগ পেয়েই গোল করে যাচ্ছেন টাঙ্গাইলের এই ছেলে। লিগ ও ফেডারেশ কাপ মিলে করেছেন সাত গোল। আর এই সাত গোল এসেছে সাত ম্যাচে। এই ম্যাচগুলোতে তিনি মূল একাদশে খেলেছেন। এর মধ্যে ফেডারেশন কাপে এক হ্যাটট্রিকসহ ছয় গোল। পরশু আসরের কোয়ালিফায়ার থ্রি-থেকে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ছিটকে ফেলেছেন তিনি। তার জোড়া গোলেই ২-১-এ জয় মোহামেডানের। মূলত বিদেশী ফুটবলারদের গুরুত্ব দিতে গিয়েই সৌরভ দেওয়ানদের মতো উঠতি দেশী ফুটবলাররা চান্স পান না। তাই সৌরভ দেওয়ানের জবাব, দেশী ফুটবলারদের সুযোগ তো দিতে হবে । সুযোগ পেলে তারা জ¦লে উঠবেই।
গত ১০ বছরে টাঙ্গাইল জেলা প্রচুর খেলোয়াড় জন্ম দিয়েছে। আর এই কাজটি করে গেছেন মরহুম কোচ জামিল। সেই সূত্র ধরেই রায়হান হাসান, বিশ্বনাথ ঘোস, রবিউল হাসানদের পর উঠে এলেন সৌরভ দেওয়ান। টাঙ্গাইল ফুটবল অ্যাকাডেমির হয়েই তৃতীয় বিভাগে খেলেছেন। সেখানে গোল দু-তিনটি করেছেন। ২০২৩-২৪ সালে মোহামেডানে আসা। এর আগে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের হয়ে ১৪ গোল করেছেন। এর আগের বছর বিসিএলে ওয়ারী ক্লাবের হয়ে তার করা গোল ছিল ১৬টি। দুই লিগের তিনি বিসিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন।
মোহামেডানের সাথে সৌরভ দেওয়ানের সম্পর্কটা ২০১৯ সাল থেকে। সেবার তিনি সাদাকালো জার্সি পরে অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল খেলেছিলেন। সৌরভের বাবা ফুটবল ভালোবাসতেন। ব্যবসায়ী বাবা মারা যাওয়ার পর এখন ছোট ভাই এবং মাকে টানতে হচ্ছে তাকে। ছোট ভাইও ফুটবল খেলেন। বাড্ডা জাগরণীর হয়ে খেলেছেন। তিনিও স্ট্রাইকার, করেছেন দুই গোল।
মোহামেডান সিনিয়র দলে আসার পর প্রথম সিজনে পাঁচ-ছয়টি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন বদলি হিসেবে। গত বছর এই ম্যাচের সংখ্যা ছিল বেশি। গতবার তিনি করেছেন পাঁচ গোল। আগের সিজনে এক গোল। এবার লিগ ও ফেডারেশন কাপের শেষ দিকে এসে একাদশে সুযোগ পাওয়া এবং গড়ে প্রতি ম্যাচেই গোল। এ জন্য সৌরভ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কোচ সেন্টুর প্রতি। জানান, তিনিই আমাকে সুযোগ দিয়েছেন। আগে তো সুযোগই পেতাম না। আমরা দেশী ফুটবলাররা যদি সুযোগই না পাই তাহলে খেলব কিভাবে। গোলই বা কিভাবে পাবো। সব ক্লাবেই দেশী ফুটবলারদের সুযোগ দিতে হবে। দলে বিদেশী ফুটবলার থাকবে। তাদের কাছে শেখার আনেক কিছু আছে। সোলেমান দিয়াবাতের কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখেছি। এরপর আমি বাফুফেকে বল তো, আমাদের মতো দেশী ফুটবলারদের খেলার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। ‘যোগ করেন মোহামেডানে কোচ বদলটা আমরা জন্য আর্শীবাদ হয়েছে।’
লিগে এখনো মোহামেডানের দুই খেলা বাকি। আর ফেডারেশন কাপে ফাইনাল বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে। সৌরভ জানান, আমার লক্ষ্য এই তিন ম্যাচেই গোল করা, দলকে জেতানো এবং ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া।
লিগে আমরাবাগের বিপক্ষে গোল। এরপর ফেডারেশন কাপে সেই আরামবাগের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক। আর ব্রাদার্সের বিপক্ষে দুই গোল। অবশ্য এই গোলগুলোর মধ্যে সৌরভের প্রিয় ব্রাদার্সের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি। এখন কোনো জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাননি। তবে আগামী মাসে মালদ্বীপ ও সানমেরিনোর বিপক্ষে দুই জাতীয় দলের একটিকে সুযোগ পেতে চান।



