বিক্রির পথে সাতআনি জমিদার বাড়ি

Printed Edition

আবুল কালাম আজাদ বগুড়া অফিস

বগুড়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ দুই নিদর্শন নবাববাড়ি ও সাতআনি জমিদার বাড়ি এখন বিলীনের পথে। নবাববাড়ির স্মৃতি প্রায় মুছে যাওয়ার পর এবার প্রায় দেড় শ’ বছরের পুরনো সাতআনি জমিদার বাড়ির একাংশ বিক্রির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সচেতন মহলে। ইতিহাসবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও নাগরিক সমাজের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এসব স্থাপনা সরকারিভাবে সংরক্ষণ না করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বগুড়ার ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হবে।

বগুড়া শহরের সাতমাথা সংলগ্ন জিলা স্কুলের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত সাতআনি জমিদার বাড়িটি নির্মিত হয় ১২৭৮ বঙ্গাব্দে। জমিদার আমলের স্থাপত্যশৈলী ও ইতিহাসের অন্যতম সাক্ষী হিসেবে এটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। জানা যায়, প্রয়াত জমিদার বংশধর মামদুদুর রহমান চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীরা বাড়িটির সম্পত্তি ধীরে ধীরে বিক্রি করছেন।

সম্প্রতি সাতআনি বাড়ির দক্ষিণ পাশের প্রায় ৫৭ শতাংশ জমি প্রায় ৪৩ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ছুটির দিনে গোপনে দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে জমি বিক্রির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ক্রেতাদের মধ্যে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রয়েছেন। ওই জমিতে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, সাতআনি জমিদার পরিবার শুধু জমিদারি নয়, শিক্ষা, সমাজসেবা ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। খানবাহাদুর হাফিজুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ হাবিবুর রহমান চৌধুরী ও মামদুদুর রহমান চৌধুরীর মতো ব্যক্তিত্ব এ পরিবারের গৌরবময় ইতিহাসের অংশ।

অন্য দিকে, বগুড়ার ঐতিহাসিক নবাববাড়িও ইতোমধ্যে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর স্মৃতিবিজড়িত এই নবাব এস্টেটের বড় অংশ আগেই বিক্রি হয়ে যায়। ২০২৩ সালে গোপনে ঐতিহাসিক ভবনটি ভাঙা শুরু হলে সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের আওতায় এলেও এখনো কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।

সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কেজি ফারুক বলেন, ‘নবাববাড়ি ও সাতআনি জমিদার বাড়ি বগুড়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। এসব স্থাপনা হারিয়ে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হবে। তাই সরকারিভাবে এগুলো অধিগ্রহণ করে প্রতœতাত্ত্বিক সম্পদ হিসেবে ঘোষণা দেয়া জরুরি।’ স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বগুড়ার শতবর্ষী ঐতিহ্যের শেষ চিহ্নগুলোও একসময় হারিয়ে যাবে।