বসন্তে রাঙা ৩ হাজার শিমুল পর্যটকের ঢল তাহিরপুরে

Printed Edition
বসন্তে রাঙা ৩ হাজার শিমুল পর্যটকের ঢল তাহিরপুরে
বসন্তে রাঙা ৩ হাজার শিমুল পর্যটকের ঢল তাহিরপুরে

মেহেদী হাসান ভূঁইয়া তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

বসন্তের আগুনরাঙা ছোঁয়ায় পূর্ণযৌবনে সেজেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান। তিন হাজার শিমুলগাছে ফুটেছে রক্তরাঙা ফুল। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, লাল গালিচা বিছিয়ে পর্যটকদের স্বাগত জানাচ্ছে প্রকৃতি।

উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামে যাদুকাটা নদী ও মেঘালয় পাহাড়ঘেঁষা প্রায় ১০০ বিঘা জমিজুড়ে বাগানটির অবস্থান। এক পাশে নীলাভ পাহাড়ের সারি, অন্য পাশে স্বচ্ছ জলের নদী ও তার মাঝখানে সারি সারি লাল শিমুলগাছ। প্রকৃতির এমন অনন্য মেলবন্ধন দেখতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। পয়লা ফাগুন ঘিরে বাগান ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয় উৎসবমুখর জনসমুদ্রে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ফুলের এই সৌন্দর্য স্থায়ী হয় প্রায় এক মাস।

শিমুলগাছের ডালে ডালে পাখির কিচিরমিচির, মাটিতে ঝরে পড়া লাল পাপড়ির কার্পেট আর পর্যটকদের উচ্ছ্বাস- সব মিলিয়ে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে পুরো এলাকা। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছবি তুলছেন, কেউ আবার প্রকৃতির নিস্তব্ধতা উপভোগ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির সুবাদে দূর-দূরান্ত থেকেও ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসছেন এখানে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০২ সালে অনাবাদি জমিতে বাগানটি গড়ে তোলেন বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম জয়নাল আবেদীন। স্থানীয়ভাবে দানবির হিসেবে পরিচিত তিনি পরিবেশ ও প্রকৃতিপ্রেম থেকেই এই উদ্যোগ নেন। বর্তমানে বাগানটির তদারকি করছেন তার ছেলে রাখাব উদ্দিন। ঢাকা থেকে আসা আইনজীবী শাহীন আলম বলেন, এক পাশে পাহাড়, অন্য পাশে বিশাল নদী আর মাঝখানে শিমুল বাগান- এ যেন ছবির মতো দৃশ্য। দেশের আর কোথাও এমন অভিজ্ঞতা হয়নি।

আরেক পর্যটক বাবুল মিয়া বলেন, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ না হয়ে থাকা যায় না। তবে বাগানে আরো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়বে। সিলেট থেকে আসা ফারুক আহমেদ জানান, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা খুবই খারাপ। দীর্ঘ পথ কষ্ট করে আসতে হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত না হলে পর্যটন সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে না।

পর্যটক শরমীলা বেগম বলেন, ফুলের গন্ধ না থাকলেও রঙের আকর্ষণ অসাধারণ। তবে বসার পর্যাপ্ত জায়গা, ছাউনি, খাবার ও থাকার ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও সেভাবে অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও আরো নজর দেয়া প্রয়োজন।

বাগানের তত্ত্বাবধায়ক রাখাব উদ্দিন বলেন, এটি তার বাবার স্বপ্নের বাগান। পর্যটকদের সুবিধার্থে কিছু উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।