ক্রীড়া প্রতিবেদক
এবার একাধিক বড় উদ্যোগের ঘোষণা এসেছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ক্রীড়া বাজেটে। খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন বা অবসর কাটানোর মাধ্যম হিসেবে না দেখে আয়, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার একটি পূর্ণাঙ্গ খাত হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেছে সরকার। ক্রীড়া ভাতা, স্পোর্টস ভিলেজ, তরুণ প্রতিভাদের জন্য বৃত্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন-সব মিলিয়ে ক্রীড়াকে ঘিরে একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্পের প্রতিফলন ঘটেছে এবারের বাজেটে।
এবারের বাজেটে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য দুই হাজার ৫৮৬ কোটি ছয় লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৮০৩ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এসেছে। আবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রস্তাবিত দুই হাজার ৪২৩ কোটি টাকার তুলনায়ও নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে ১৬৩ কোটি ছয় লাখ টাকা।
এর মধ্যে বিশেষভাবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রোগ্রামসহ ক্রীড়া খাতের নানা উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এবারের বাজেটে খেলাধুলাকে কেবল বিনোদন হিসেবে না দেখে, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ স্থাপন এবং ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের বৃত্তি প্রদানের মতো বড় প্রকল্পগুলো এই বাজেটের আওতায় বাস্তবায়িত হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বরাদ্দের বড় অংশ উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে। পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার আট কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ১ হাজার ৫৭৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া আবর্তক ব্যয় দুই হাজার ২৮৫ কোটি ১৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং মূলধন ব্যয় ৩০০ কোটি ৮৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই ক্রীড়া খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রীড়াকে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করা হবে, যেখানে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করেছে। প্রতিটি অঞ্চলে আধুনিক ক্রীড়া সুবিধা পৌঁছে দিতে ৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি জেলার স্পোর্টস ভিলেজের প্রাথমিক নকশা প্রস্তুত হয়েছে। সরকারের আশা, এসব স্পোর্টস ভিলেজ ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, প্রতিভা বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
তরুণ প্রতিভা বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার এবং মার্শাল আর্টে বৃত্তি প্রদান করা হবে। সারা দেশ থেকে ইতোমধ্যে এক লাখ ৬৮ হাজার ৬২২ জন খেলোয়াড় এ কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সরকার চায় প্রতিটি শিক্ষার্থী অন্তত একটি খেলাধুলার সাথে যুক্ত থাকুক। এ লক্ষ্যে নিয়মিত টুর্নামেন্ট ও প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।



