পুঁজিবাজারের স্বার্থপরিপন্থী ও বিতর্কিত দু’টি কালো আইন- ‘মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫’ ও ‘মার্জিন রুলস ২০২৫’ আগামী দুই মাসের মধ্যে বাতিলের আশ্বাস দিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। গত বুধবার রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনের সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী ফোরামের সভাপতি জহুরুল হক জুয়েল।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, দেশের ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর অধীনে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ রয়েছে। বিতর্কিত বিধিমালার মাধ্যমে এসব ফান্ড জোরপূর্বক অবসায়ন বা রূপান্তর করা হলে বাজারে বড় বিপর্যয় নামবে। এটি ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর করলেও সমাধান হবে না, কারণ অর্থ ফেরতের চাপে শেষ পর্যন্ত শেয়ার বিক্রি করতেই হবে। এর ফলে বাজারে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার প্যানিক সেল বা অতিরিক্ত বিক্রির চাপ তৈরি হতে পারে। এতে ৬৭টি সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারাবেন।
বক্তারা আরো অভিযোগ করেন, বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াতের আমলে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ১২৭ জন কর্মকর্তা এই কালো আইন বাস্তবায়নের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদ খান দেশের বাইরে থাকার সুযোগে এই চক্রটি গত ৯ জুন ট্রাস্টি আইসিবিকে চিঠি দিয়ে ফান্ড অবসায়নের জন্য অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছে।
বিনিয়োগকারী নেতারা অবিলম্বে বিএসইসির ওই ১২৭ জন কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেন। একই সাথে পুঁজিবাজারের আস্থা ও তারল্য সঙ্কট কাটাতে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত স্থগিত করে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি।



