কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা জোরদার যুক্তরাষ্ট্রের

Printed Edition
হাভানায় এক পোস্টারের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পথচারীরা, যেখানে বাঁ দিক থেকে দেখা যাচ্ছে মরহুম কিউবান নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো, সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রো এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলকে  : ইন্টারনেট
হাভানায় এক পোস্টারের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পথচারীরা, যেখানে বাঁ দিক থেকে দেখা যাচ্ছে মরহুম কিউবান নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো, সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রো এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলকে : ইন্টারনেট

আলজাজিরা ও বিবিসি

কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কিউবা একটি বড় হুমকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি মনে করেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার সঙ্কট কূটনৈতিকভাবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের সম্ভাবনা খুবই কম। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে কিউবা।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিউবার ক্ষেত্রে কূটনীতিকেই ওয়াশিংটন এখনো প্রাধান্য দিচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘আমি আপনাদের সত্য বলতে চাই। আপনারা জানেন, যাদের সাথে মোকাবেলা করতে হচ্ছে সেটা বিবেচনায় নিলে সেটাতে (কূটনীতি) সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়,’।

১৯৯৬ সালে দু’টি বিমান ভূপাতিত করে চার মার্কিন নাগরিককে হত্যার অভিযোগে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত অভিযোগ গঠনের এক দিন পর রুবিও এই মন্তব্য করলেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার রাখেন। একইসাথে কিউবাকে এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও অভিযুক্ত করেন তিনি। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগুয়েজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কিউবা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ছিল না। রুবিও মূলত একটি সামরিক হামলা উসকে দেয়ার চেষ্টা করছেন এবং মার্কিন সরকার ‘নির্দয় ও পরিকল্পিতভাবে’ কিউবার বিরুদ্ধে কাজ করছে।

চলতি বছরের শুরু থেকে কিউবার ওপর মার্কিন তেল নিষেধাজ্ঞা চলছে। নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটিতে তেল পাঠানো দেশগুলোর পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার কমিউনিস্ট শাসনের অবসান চায়। হাভানাকে চুক্তিতে বাধ্য করতে তারা একের পর এক পদক্ষেপও নিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন তেল অবরোধের কারণে দ্বীপদেশটি কয়েক মাস ধরেই তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে ভুগছে। তীব্র হয়েছে লোডশেডিং, খাদ্য ঘাটতি। দেশটির অর্থনীতিও পড়েছে মারাত্মক চাপে। এর মধ্যেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ১০ কোটি ডলার ত্রাণ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন রুবিও।

এদিকে, রাউল ক্যাস্ট্রোর বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগকে অনেকেই চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার ঘটনার সাথে তুলনা করছেন। মিয়ামিতে ক্যাস্ট্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ঘোষণা করার সময় মার্কিন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ আশা প্রকাশ করেন যে, ক্যাস্ট্রো ‘নিজ ইচ্ছায় বা অন্য কোনোভাবে’ সেখানে হাজির হবেন। ক্যাস্ট্রোকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রুবিও বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। পাশাপাশি রুবিও জানান, কিউবার সামরিক বাহিনী পরিচালিত একটি বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তার বোন আদিস লাস্ত্রেস মোরেরাকে ফ্লোরিডা থেকে গ্রেফতার করেছে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে ফ্লোরিডায় বসবাস করে হাভানার কমিউনিস্ট সরকারকে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। বহিষ্কারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি হেফাজতেই থাকবেন।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে একটি ‘ব্যর্থ দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, তার প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশটিকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে এবং কিউবান-আমেরিকানরা নিজেদের দেশে ফিরে কিউবাকে সফল করতে চান। ট্রাম্প আরো বলেন, ‘৫০-৬০ বছর ধরে অন্য প্রেসিডেন্টরা এ বিষয়ে কী করা যায় তা ভেবেছেন। মনে হচ্ছে, আমিই হয়তো সেটা বাস্তবায়ন করতে পারব। আর আমি সেটা করতে পারলে খুশি হব।’ অন্য দিকে, রাউল ক্যাস্ট্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিচারিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের মিত্রদেশ কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জবরদস্তি’ ও ‘হুমকি’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। ক্রেমলিন মন্তব্য করেছে, হাভানার ওপর ওয়াশিংটন যে চাপ তৈরি করছে তা ‘সহিংসতার কাছাকাছি’ পর্যায়ের। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ দিন ধরেই কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করে আসছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও তেল অবরোধের কারণে কিউবায় তীব্র জ্বালানিসঙ্কট তৈরি হয়েছে, যা দেশটিতে দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ও খাদ্য সঙ্কটকে আরো প্রকট করে তুলেছে।