একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির রাখতে চায় : মির্জা ফখরুল

Printed Edition
নওগাঁর  পতিসরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীল : নয়া দিগন্ত
নওগাঁর পতিসরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীল : নয়া দিগন্ত

আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের প্রতি মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। কিন্তু দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী আছে, তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা এই সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়। আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চাই না। আমাদের রাজনীতি সুন্দর-পরিচ্ছন্ন না। বারবার মানুষেরা পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে, পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি।

গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরে রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাইয়ে আমাদের সন্তানরা সবাই মিলে যে লড়াইটা করল, আমরা একে বলি জুলাই যুদ্ধ। পরিবর্তন এসেছে, নতুন নির্বাচন হয়েছে। মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে। বিগত সরকার দেশ ও প্রশাসনকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে লড়াই করেই আমরা আজ এই অবস্থায় এসেছি। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অশান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে এই বিজয়কে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, রবীন্দ্রনাথ কেবল সাহিত্যিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে তার গৃহীত পদক্ষেপগুলো বর্তমান সময়ের জন্য উদাহরণ। পতিসরের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি স্মরণ করেন যে রবীন্দ্রনাথ এখানে কৃষি ব্যাংক স্থাপন এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি শুরু করেছিলেন। তিনি সমাজকে অস্থিতিশীল রাখা হতাশাবাদী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে বলেন।

জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের যে স্বকীয়তা, আমাদের যে স্বতন্ত্র পরিচয়, আমরা বাংলাদেশী এই কথাটা আমাদের সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। ৯ মাস যুদ্ধ করেছি। এই যুদ্ধ করেই আমরা স্বাধীনতা নিয়ে এসেছি। আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে পেয়েছি লড়াই করেই।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী আত্রাই ও রাণীনগরে দু’টি পৌরসভা স্থাপনের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর উপস্থিত জনতা ও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, পৌরসভা বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-০৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য মো: রেজাউল ইসলাম রেজু, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নওগাঁ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: নূরে আলম সিদ্দিক, আত্রাই থানার ওসি মো: আব্দুল করিমসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।