নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরখানে গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে ছয়জন দগ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে মিরপুরের পাইকপাড়ায় মো: মিরাজ (২৬), সুজন (২৪) ও বিপ্লব (২৪) নামে তিনজন এবং উত্তরখানে মোছা: হাসনা হেনা (৪০), আখি (৩০) ও আলী হোসেন (৫০) নামে আরো তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মিরপুরের পাইকপাড়ার একটি বাসায় সিগারেট জ্বালাতে গিয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে করে একে একে পরিবারের তিনজন দগ্ধ হলে আশঙ্কজনক অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা: শাওন বিন রহমান তিনি জানান, এখানে আসা তিনজনকেই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মিরাজের শরীরে ১৫ শতাংশ, সুজনের শরীরে ২৪ শতাংশ ও বিপ্লবের শরীরে ১০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
এ দিকে একই দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরারর উত্তরখানের একটি বাসায় চুলায় আগুন জ্বালাতে গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, উত্তরখান এলাকা থেকে আগুনে দগ্ধ হয়ে হয়ে ভর্তি তিনজনের মধ্যে অবস্থা গুরুতর আলী হোসেনের। তার শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছে, হাসনা হেনার ৬০ শতাংশ ও আখির ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে মৃত্যু এবং আহত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তার পরও আমাদের মধ্যে সচেতনতা আসছে না। গ্যাস সিলিন্ডার লিক হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম থাকে। মুলত গ্যাসের পাইপ অথবা চুলায় থাকা পাইপের লিক থেকে গ্যাস বের হয়ে বন্ধ থাকা রান্না ঘরে জমা হয়। লিক হওয়া গ্যাস বের হওয়ার যায়গা না পাওয়ায় তা কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘরের মধ্যে ছড়াতে থাকে। ওই সময় যেকোনো ধরনের আগুনের সংর্স্প পেলে ভয়াবহ আকারে আগুন জ্বলে ওঠে। লাইনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। এ কারণে রান্নাঘরে ভেন্টিলেশন থাকা খুবই জরুরি। যাতে গ্যাস লিক হলেও তা বেরিয়ে যেতে পারে।



