চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়নে ২৫ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন

নাগরিকরা মতামত দিতে পারবেন ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

নান্দনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য মাস্টারপ্লানের খসড়া মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলোর অভিজ্ঞতা, বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা এবং নগরায়নের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে নতুন খসড়া মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। প্লানের মধ্যে নগরের ভূমি ব্যবহার, যোগাযোগ, পরিবহন, জলাবদ্ধতা, আবাসন, পরিবেশ, পাহাড়, নদী, খাল, পুকুর, জলাশয়, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুন খসড়া প্রস্তাবের ওপর আজ রোববার থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন জনমত, আপত্তি সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাব প্রদান করা যাবে।

সিডিএ কর্তৃক চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য প্রণীত নতুন মাস্টারপ্লান বিষয়ে জনমত আহ্বান করে গতকাল শনিবার আহূত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন পরিকল্পনায় চট্টগ্রাম নগরীর বাইরেও এলাকা সম্প্রসারণ করার কথা বলা হয়েছে। আনোয়ারা, রাউজান হাটহাজারি, পটিয়া ও সীতাকুণ্ডসহ নগরীর পাশর্^বর্তী বিস্তৃত এলাকা পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এসব এলাকায় যে প্রতিষ্ঠানই ভবন বা উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুমোদন করুক না কেন, তা যেন অনুমোদিত মাস্টারপ্লানের প্রস্তাব ও নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর ওপর জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপ কমানোর লক্ষ্যে পাশর্^বর্তী উপজেলাগুলোতে পরিকল্পিত মিনি ও স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার প্রস্তাব মাস্টারপ্লানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক নগর পরিকল্পনাবিদ মো: আবু ইছা আনছারী। সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন সিডিএ বোর্ড সদস্য জাহিদুল করিম কচি, বোর্ড সদস্য স্থপতি ফারুক আহমেদ, বোর্ড সদস্য প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন, বোর্ড সদস্য মো: নজরুল ইসলাম, সার্বক্ষণিক সদস্য মো: জামিলুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকোশলী এ এম হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

এ সময় বলা হয়, নতুন খসড়া প্রস্তাবের ওপর আগামী ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন জনমত, আপত্তি সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাব প্রদান করা যাবে। নাগরিকরা সিডিএ হলরুম, ৪র্থ তলা, সিডিএ ভবনে গিয়ে খসড়া পরিকল্পনার প্রতিবেদন, প্রস্তাবনা ও সংশ্লিষ্ট মানচিত্র সরাসরি পরিদর্শন করতে পারবেন। সরাসরি সিডিএতে গিয়ে বা ওয়েবসাইট িি.িপফধ.মড়া.নফ লগইন করেও মতামত প্রদান করা যাবে। এ ছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়েও জনমত দেয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন- এটি একটি ২৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা, যা সিডিএর ৪র্থ পরিকল্পনা। বর্তমানের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে-চট্টগ্রামের মানুষ কী ধরনের নগর চান, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে এবং আগামী দিনের চট্টগ্রাম কেমন হওয়া উচিত এসব বিষয়ে জনমত নিয়েই খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, নিয়ম ও পরিকল্পনার ব্যত্যয়ের কারণে আমরা পরিকল্পিত ও কাক্সিক্ষত চট্টগ্রাম নগরী গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছি। নাগরিকরা সচেতন না হলে শুধু পরিকল্পনা দিয়ে সফল হওয়া যাবে না।