সারা দেশে বজ্রপাতে ৮ কৃষকের মৃত্যু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে এক দিনে অন্তত আট কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নওগাঁ, ময়মনসিংহ, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানি ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধান কাটার সময় বা মাঠে কাজ করতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রপাতে তারা নিহত হন। একই সাথে কয়েকজন কৃষক গুরুতর আহত হয়েছেন। হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড়ের মধ্যে খোলা মাঠে কাজ করার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় কৃষকের পরিবারগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নওগাঁর নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিনজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন।

মহাদেবপুর সংবাদদাতা জানান, গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুড়াপাড়া দিঘির পাড়ে ধান কাটার সময় বজ্রপাতের শিকার হন দিলীপ চন্দ্র বর্মণ (৪৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত হরি চরণ বর্মণের ছেলে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় দিলীপের সাথে থাকা জীবন ও নারায়ণ নামের আরো দুই কৃষক গুরুতর আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অন্য দিকে নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে ধান নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে অনুকূল চন্দ্র মাহন্ত নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। একই সময়ে উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের খোদ্দচাম্পা গ্রামে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে আসা এক অজ্ঞাতনামা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ওই শ্রমিকের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে। মহাদেবপুর ও নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পৃথক এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ দিকে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে বোরো ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুর রশিদ (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বেলা ৩টার দিকে বাড়ির পাশের জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ ঝোড়ো বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রাঘাতে তিনি মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

অন্য দিকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের ভুল্যারহাট বাজার এলাকায় ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় ইউসুফ আলী (৪০) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে বৃষ্টির সময় ক্ষেত থেকে ভুট্টা নিয়ে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পর পুনরায় কাজ করতে গেলে তিনি বজ্রপাতের শিকার হন। তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধির পাঠানো সংবাদ অনুসারে, জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার পৌর শহরের বদিজামালপুর গ্রামে ধান কাটতে গিয়ে ওবাইদুল ইসলাম নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে নিজ জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বজ্রপাত সরাসরি তার ওপর আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হীল জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে নাটোর জেলার লালপুরে পদ্মার চরে কৃষি কাজ করার সময় বজ্রপাতে আজিজ মন্ডল (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার বিলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের নওসাড়া সুলতানপুর চরের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজিজ মন্ডল ওই গ্রামের মসলেম মন্ডলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালপুর উপজেলার বিলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের নওসাড়া সুলতানপুর চরের মাঠে নিজ জমিতে কাজ করছিলেন কৃষক আজিজ মন্ডল। এসময় হঠাৎ করে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। এতে তার শরীরের বাম পাশের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে সোহেল মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানান, সোহেল মিয়া নিজ ক্ষেতে ভুট্টা তুলছিলেন। হঠাৎ করে বিকেলে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি ক্ষেতেই অবস্থান করছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, ধান কাটার মৌসুমে কৃষকরা খোলা মাঠে দীর্ঘ সময় কাজ করায় বজ্রপাতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলেও ফসল রক্ষার তাগিদে অনেকেই মাঠ ছেড়ে যেতে পারেন না, যার ফলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে। এ দিকে বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ এড়িয়ে চলা, নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।