পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানিতে প্রতি বছরের মতো এবারো চট্টগ্রামবাসীর পছন্দের শীর্ষে থাকছে দেশের একমাত্র উন্নত ও চট্টগ্রামের নিজস্ব জাতের রেড চিটাগাং ক্যাটল বা অষ্টমুখী লাল ষাঁড়।
এবার জেলাজুড়ে ৪৫ হাজারের অধিক লাল ষাঁড় গৃহস্থবাড়ি ও ছোট-বড় খামারগুলোতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। চট্টগ্রামে কোরবানির উপযুক্ত গবাদিপশুর মধ্যে তিন লাখ ৭৫ হাজার ষাঁড়, এর মধ্যে অন্তত ৪৫ হাজারের বেশি রয়েছে দেশী জাতের লাল ষাঁড়। গতকাল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো: আলমগীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই জাতের লাল ষাঁড় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা ও হাটহাজারীতে বেশি পাওয়া যায়। গতকাল বাগিচাহাটে গিয়ে দেখা যায়, ছোট-বড় ও মাঝারি বেশ কয়েকটি লাল ষাঁড় উঠেছে। বড় লাল ষাঁড়টির ওজন হবে ২৫০ কেজির মতো।
চট্টগ্রামের স্থানীয় জাতের রেড চিটাগাং ক্যাটল বা লাল ষাঁড় কিংবা অষ্টমুখী লাল ষাঁড়ের শিং, ঠোঁট, লেজ, ক্ষুর কান-সহ আটটি অঙ্গই থাকে লাল। আর সে কারণে এ জাতের ষাঁড় হাট-বাজারে উঠলেই ক্রেতাদের নজর কাড়ে। চলতি বছর কোরবানিতে বড় বড় ষাঁড়-বলদের পাশাপাশি রেড চিটাগাং ক্যাটলের চাহিদা এবারো বেশি দেখা যাচ্ছে বাজারে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের হাটবাজারগুলোতে কোরবানির গবাদিপশু বিক্রি শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী অঞ্চল থেকে উঠে আসা এই প্রজাতির অষ্টমুখী লাল গরু দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি এই গরুর দুধ খুব মিষ্টি, গোশতও তেমন সুস্বাদু।
দেশের বিভিন্ন জাতের গরুর মধ্যে রেড চিটাগাং ক্যাটলের বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর যেকোনো অঞ্চলের গরুর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা প্রকৃতির হয়ে থাকে। একটি পূর্ণ বয়স্ক লাল গাভীর ওজন হয় ১৫০ থেকে ২০০ কেজি পর্যন্ত।
ষাঁড়ের ওজন হয় প্রায় ২৫০, ৩০০ থেকে সাড়ে ৪৫০ কেজি পর্যন্ত। তা ছাড়া পূর্ণবয়স্ক একটি গাভী বাড়তি খাবার ছাড়াই সাত থেকে আট লিটার পর্যন্ত দুধ দিয়ে থাকে এবং প্রতি বছরই বাচ্চা দিতে সক্ষম হয় এই জাতের গাভী। দেশীয় আবহাওয়া ও সাধারণত দেশী খাবার দিয়ে এ জাতীয় গরু লালন-পালন খুবই সহজ।



