চট্টগ্রামে ঈদের আগে তৎপর জাল নোট সিন্ডিকেট

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

পবিত্র ঈদুল আজহার গরু বাজারকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোট চক্র। নগরের বিভিন্ন মার্কেট, কোরবানির পশুর হাট ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টা বাড়ছে এমন তথ্য জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যে পৃথক দু’টি অভিযানে জাল নোটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, ঈদে নগদ লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় এই সময়টিকে লক্ষ্য করে সক্রিয় হয় জাল নোট চক্র। বিশেষ করে পশুর হাট, ভাসমান বাজার, ছোট দোকান ও অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্রগুলোকে টার্গেট করে তারা জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ অজ্ঞাতসারে এসব নোট গ্রহণ করে প্রতারিত হচ্ছেন।

গত ১৬ মে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭। র‌্যাব জানায়, বেলা সাড়ে ১টার দিকে পাঁচলাইশ থানাধীন হানজারবাগ জিলানী গলির পাশে শুক্কুর মোটরসের সামনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে মো: আছান উল্লাহ হাসান (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার কাছে থাকা একটি সাদা শপিং ব্যাগ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৫০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। একই দিনে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাটহাজারী থানার আলিপুর আব্বাসিয়াপুর এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে জাহিদুল ইসলাম প্রকাশ আসিফ (২১) ও হাসানুর রাহি (১৯) নামে দু’জনকে জাল নোটসহ আটক করা হয়। র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, জাল নোট পাচার চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জাল নোট চক্রের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাল নোট চক্রগুলো সাধারণত বড় নোট, বিশেষ করে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নকল তৈরি করে বাজারে ছাড়ে। এসব নোট অনেক সময় এতটাই নিখুঁত হয় যে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের পক্ষে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কোরবানির ঈদ মৌসুমে বাড়তি সতর্কতা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বরাবরই জাল নোট শনাক্তে কিছু নির্দেশনা দেয়া হলেও মাঠপর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নোটের কাগজ, ওয়াটারমার্ক, নিরাপত্তা সুতা ও রঙের সূক্ষ্ম পার্থক্য খেয়াল করলে জাল নোট চিহ্নিত করা সম্ভব। এদিকে নগরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী জানান, ঈদের সময় লেনদেন বাড়ায় তারা বাড়তি ঝুঁকিতে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে ব্যস্ততার সুযোগে জাল নোট ঢুকিয়ে দেয়া হয়। তাই বড় অঙ্কের লেনদেনে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক নোট পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।