বিনোদন ডেস্ক
পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আফগানিস্তানে বেশ কিছু নারীকে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসঙ্ঘের স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার তারা জানান, বোরকা বা মুখোশসহ চাদর পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ডিক্রি অমান্য করার অভিযোগে ওই নারীদের আটক করা হয়। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে দেশটির দে ফাক্তো (কার্যত) শাসকগোষ্ঠী নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য মৌলিক অধিকারের ওপর ক্রমাগত বিধিনিষেধ আরোপ করায় সেখানে এক চরম মানবাধিকার সঙ্কট তৈরি হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘের নারী অধিকার ও লিঙ্গ সমতা বিষয়ক সংস্থা বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছে, ‘আটক হওয়া অনেক নারীকে ইতোমধ্যে ছেড়ে দেয়া হলেও, এই গ্রেফতারের ঘটনা আফগানিস্তানজুড়ে নারী ও মেয়েদের মনে তীব্র ভয় ও শঙ্কা তৈরি করেছে।’ নারীদের ওপর এই খেয়ালখুশি মতো গ্রেফতার ও আটক করার প্রভাব অত্যন্ত গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। আফগানিস্তানে জাতিসঙ্ঘের মিশন (ইউনামা)-এর বর্তমান প্রধান ও উপ-বিশেষ প্রতিনিধি জর্জেট গ্যাগনন বলেন, ‘আফগানিস্তানে কোনো নারীর আটক হওয়া মানেই তার ওপর এক বিশাল সামাজিক কলঙ্ক নেমে আসা। এর ফলে মুক্তির পরও ওই নারীরা তাদের পরিবার ও সমাজে আরো বেশি সহিংসতা এবং একাকীত্বের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।’
এদিকে, গত ৯ জুন হেরাত শহরে নারীদের ওপর আরোপিত এই কঠোর বিধিনিষেধ ও গ্রেফতারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিল কর্তৃক নিযুক্ত বিশেষজ্ঞরা। তাদের তথ্যমতে, তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে এবং অনেককে মারধর করেছে। এতে এক শিশুসহ অন্তত দু’জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, কয়েকজন বিক্ষোভকারীর ঢিল ছোড়ার খবর পাওয়া গেলেও, কেবল সেই কারণে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। তারা মনে করিয়ে দেন, আফগানিস্তানের বর্তমান শাসক হিসেবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিগুলো মেনে চলা তালেবানের দায়িত্ব। সমতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মত প্রকাশ ও চলাফেরার স্বাধীনতা এবং খেয়ালখুশি মতো আটক না হওয়ার অধিকারগুলো জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।



