আজ বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ শুরু

১ম ইনিংসে ৪০০ চায় বাংলাদেশ

Printed Edition
টেস্ট সিরিজের ট্রফির সামনে করমর্দন করছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাংলাদেশের নাজমুল হাসান শান্ত : নয়া দিগন্ত
টেস্ট সিরিজের ট্রফির সামনে করমর্দন করছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাংলাদেশের নাজমুল হাসান শান্ত : নয়া দিগন্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় টেস্ট সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। ক’দিন আগেই ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ জেতা বাংলাদেশ রয়েছে দারুণ ফর্মে। তার উপর পাকিস্তানের মাটিকে টেস্ট জিতে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান শান্ত বাহিনী। সিরিজটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে লাল-সবুজদের শিবিরে। বাংলাদেশের টার্গেট ৪-৫ হলেও পাকিস্তানের স্বপ্ন ফাইনাল খেলা। ঘরের মাঠে কতটুকু যেতে পারবে ফিল সিমন্সের শিষ্যরাÑ সেটি সময়ই বলে দেবে।

বর্তমান চক্রে ৫০ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে পাকিস্তান পাঁচ নম্বরে। গত বছর ঘরের মাঠে পাকিস্তান ১-১ সমতায় টেস্ট সিরিজ ড্র করেছিল দণি আফ্রিকার সাথে। আর ১৬.৬৭ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে আটে বাংলাদেশ।

তবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গত চক্রে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। দেশের মাটিতে খেলা ৬টি টেস্টের মধ্যে জয় এসেছিল মাত্র একটিতে। মূলত ব্যাটিং ব্যর্থতাই ছিল এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। পরিসংখ্যান বলছে, ওই ৬ টেস্টে মাত্র একবার তিন শতাধিক রানের দেখা পেয়েছিল টাইগাররা। আসন্ন লড়াইয়ে সেই চিত্র বদলাতে মরিয়া অধিনায়ক শান্ত। পাকিস্তানের বিপে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়ে দিলেন, জয়ের ভিত গড়তে প্রথম ইনিংসে বড় স্কোরের কোনো বিকল্প নেই।

অধিনায়ক হিসেবে শান্তর কথা, ‘কন্ডিশন যেমনই হোক, ব্যাটারদের বড় দায়িত্ব নিতে হবে। প্রথম ইনিংসে আমরা যেন সব সময় ভালো খেলি। চার শ’র বেশি রান যদি আমরা করতে পারি, সেটা দলের জন্য খুব ভালো। তবে রান করার েেত্র আমি কারো খেলার ধরন পরিবর্তন করতে চাই না। ৮০ ওভারে যদি আমরা ৪০০ করতে পারি কোনো সমস্যা নেই, আবার যদি কেউ ১২০ ওভার লাগায়, তাতেও আমার সমস্যা নেইÑ রান করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

বাংলাদেশের বর্তমান ব্যাটিং লাইআপে অভিজ্ঞতার ঘাটতি নেই। তানজিদ হাসান তামিম ও অমিত হাসান বাদে প্রায় সবারই অন্তত ২০টি করে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। যদিও তাদের অধিকাংশ ম্যাচই ছিল বিদেশের মাটিতে। তবে শান্ত মনে করেন, মিরপুরের হোম কন্ডিশনে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর এখনই সময়। মিরপুরের উইকেট নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক বলেন, ‘সাম্প্রতিক সাদা বলের ক্রিকেটে মিরপুরের উইকেট আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। আশা করা যায়, ব্যাটাররা এবার এখানে নিজেদের মেলে ধরতে পারবে।’

রাজনৈতিক বৈরিতায় ভারত-পাকিস্তান দ্বিপীয় সিরিজ হয় না ১৩ বছর ধরে। এশিয়া কাপ, আইসিসি ইভেন্ট ছাড়া দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ মেলে না। আর ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণ টেস্টে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী খেলেছে প্রায় ২০ বছর আগে। তবে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদের চিন্তা আপাতত বাংলাদেশ সিরিজ নিয়েই। ২০০৭ সালের বেঙ্গালুরু টেস্টই ভারত-পাকিস্তানের সবশেষ কোনো টেস্ট। আর বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক শান মাসুদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে ২০১৩ সালে। ওয়ানডে, টি-২০তে যেমন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, বিশ্বকাপে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ মেলে, টেস্টে ফাইনাল ছাড়া ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের কোনো সম্ভাবনা নেই।

মিরপুরে গতকাল ভারত-পাকিস্তান টেস্ট ম্যাচের প্রসঙ্গ এলে মাসুদ বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের সব মনোযোগ বাংলাদেশের বিপে এই সিরিজের ওপর। অনেক দূর নিয়ে ভাবতে চাই না। প্রতিটি দলেরই স্বপ্ন থাকে বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা বা ট্রফি জেতা। তবে এই মুহূর্তে আমাদের ল্য কেবল বাংলাদেশ এবং ভালো ক্রিকেট খেলা। পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের অতীতে কী হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। খেলার মাঠে আমরা খেলা দিয়েই নজর এবং মন কাড়তে চাই।’

২০২৪ সালে শান্তর নেতৃত্বে পাকিস্তানে গিয়ে বাংলাদেশ যে সিরিজ জিতেছিল সেটির অধিনায়কও ছিলেন শান মাসুদ। এবার তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিপে প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ পাকিস্তানের সাথে। বাংলাদেশ দলকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে মাসুদ বলেন, ‘আমি দুই বছর আগে দু’টি সিরিজ খেলেছি, বাংলাদেশের বিপ।ে এখন দলটাও প্রায় একই রকম। খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং দ। স্পিন, পেস বোলিং খুব শক্তিশালী। ভালো ও কঠিন দলের বিপে খেলতে আমরা পছন্দ করি।’

বাংলাদেশ সিরিজে সাবেক ক্রিকেটাররা আসছেন পাকিস্তানের কোচ হয়ে। পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদের সাথে ব্যাটিং কোচ ও বোলিং কোচের দায়িত্বে থাকছেন আসাদ শফিক ও উমর গুল। তাদের সাথে আগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় বোঝাপড়াও ভালো বলে জানিয়েছেন মাসুদ। পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘ভালো ব্যাপার হলো আমাদের নতুন ম্যানেজমেন্টের সাথে আগে খেলেছি। সরফরাজ আহমেদের অধিনায়কত্বে খেলেছি। আসাদ ভাই আমাদের সিনিয়র ব্যাটার ছিলেন এবং উমর গুলের সাথে ঘরোয়া ও পাকিস্তান দলে খেলেছি। তাই আমাদের কাছেÑ এটা নতুন কোনো সেটআপ মনে হচ্ছে না। তারা আমাদের সবাইকে খুব ভালো করে চেনেন।’

কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে করাচির হানিফ মোহাম্মদ হাই পারফরম্যান্স সেন্টারেও ট্রেনিং ক্যাম্প করেছিল পাকিস্তান। পিএসএলের কয়েকজন ক্রিকেটারও ছিলেন সেই অনুশীলনে। নতুন টেস্ট কোচ সরফরাজ তাদের অনুশীলন পর্যবেণ করেছেন। কোচ-ক্রিকেটারদের সম্পর্ক ভালো থাকলে তা দলের অনেক উপকারে আসবে বলে মনে করেন মাসুদ।

অধিনায়ক শান বলেন, ‘কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যকার এই সুসম্পর্ক পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য ভালো। পিএসএলের কারণে প্রস্তুতির সময় কম থাকলেও আমরা একটি ভালো রেড বল ক্যাম্প করেছি এবং এখানে এসেও ভালো অনুশীলন হয়েছেÑ সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসী।’