খালেদা জিয়া প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দল এক কাতারে

Printed Edition
খালেদা জিয়া প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী  দল এক কাতারে
খালেদা জিয়া প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দল এক কাতারে

সংসদ প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিচ্ছিলেন পাবনা-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রাহমান শিমুল বিশ্বাস। যিনি দীর্ঘদিন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বক্তব্যের মাঝপথে মাগরিবের নামাজের বিরতি প্রদান করা হয়। যথারীতি বিরতির পর ডেপুটি স্পিকার শিমুল বিশ্বাসকে অসমাপ্ত বক্তব্য শেষ করতে দুই মিনিট সময় দেন। পরে আবেদনের ফলে সময় বাড়িয়ে চার মিনিট করা হয়।

শিমুল বিশ্বাস তার বক্তব্যে খালেদা জিয়াকে কিভাবে আদালতে নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়, রায় ঘোষণার দিন বিচারপতির এজলাস ত্যাগ করা, কিভাবে কারাগারে নেয়া হয়েছে সেই বর্ণনা দিতে থাকেন। এর পাশাপাশি স্বৈরাচার পতনে তার অবদান, নেতৃত্ব, কার্যক্রমগুলো তুলে ধরেন। তিনি যখন কথাগুলো বলছিলেন তখন সংসদে এক ধরনের পিনপতন নীরবতা লক্ষ্য করা যায়। সবাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে কথাগুলো শুনছিলেন।

একপর্যায়ে মাইক বন্ধ হয়ে গেলে সংসদে উপস্থিত সবাই সময় আরো পাঁচ মিনিট বাড়িয়ে দিতে স্পিকারকে অনুরোধ করেন। পরে সবার অনুরোধে সময় আরো পাঁচ মিনিট বাড়িয়ে দেন ডেপুটি স্পিকার। এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, আপনি দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী ছিলেন। সবার অনুরোধে আপনার সময় আরো পাঁচ মিনিট বাড়িয়ে দেয়া হলো। এই ঘোষণায় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে ডেপুটি স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান।

দীর্ঘ বক্তব্যে শিমুল বিশ্বাস বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন আমাদের ঐক্যের প্রতীক। আজ যারা বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আছেন, তারাও বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে কোনো দিন নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। আমরা ডিবি অফিস, জেলখানায় একসাথে অনেক সময় থেকেছি। একসাথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করেছি। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এখন কেউ কেউ জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন।

শিমুল বিশ্বাস আরো বলেন, আমাদের সবার উদ্দেশ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ গড়া। আজ আমি বলতে চাই, এখন আমরা কেউ সরকারে আবার কেউ বিরোধী দলে। আমি বিশ্বাস করি খালেদা জিয়া যে বাংলাদেশের জন্য কারো সাথে আপস করেননি, নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেই দেশ গড়তে হলে সরকার ও বিরোধী দল সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।