রংপুর মেডিক্যালে ৪২টি জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রই অচল

৩ এমপির পরিদর্শনে চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র

Printed Edition
রংপুর মেডিক্যাল পরিদর্শনের সময় কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি :  নয়া দিগন্ত
রংপুর মেডিক্যাল পরিদর্শনের সময় কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি : নয়া দিগন্ত

রংপুর ব্যুরো

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আইসিইউ বেড, অ্যাম্বুলেন্স ও জনবল সঙ্কটের পাশাপাশি অচল যন্ত্রপাতির জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালের ২৬টি এক্স-রে মেশিনের মধ্যে ২৪টি, তিনটি সিটি স্ক্যানের দুইটি, তিনটি এমআরআই মেশিনের দুইটি এবং ১৩টি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের ১০টিই বর্তমানে অচল। এই ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলালের নেতৃত্বে তিন সংসদ সদস্যের আকস্মিক পরিদর্শনে। গতকাল রোববার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন তারা। এ সময় তাদের সাথে ছিলেন রংপুর-৫ আসনের এমপি গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী এবং হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান।

পরিদর্শনকালে দেখা যায়, কোটি কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে অবহেলায় পড়ে আছে, যার অনেকগুলো ময়লার স্তূপ ও দুর্গন্ধে ঢাকা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমপিদের জানায়, অচল যন্ত্রপাতির মধ্যে ২০টি এক্স-রে, দুইটি সিটি স্ক্যান, দুইটি এমআরআই এবং আটটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন সম্পূর্ণ মেরামত অযোগ্য। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তিনটি সভার পরও এসব অকেজো স্ক্র্যাপ স্টোর রুম থেকে সরানো যাচ্ছে না, ফলে নতুন মেশিন স্থাপনের জায়গাও মিলছে না। মাত্র চারটি এক্স-রে ও দুইটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন মেরামতযোগ্য হলেও সরকারি উদ্যোগের অভাবে তা আটকে আছে। এ ছাড়া আট জেলার ভরসা এই হাসপাতালে আইসিইউ বেড রয়েছে মাত্র ১০টি।

পরিদর্শন শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি বলেন, ‘তীব্র জনবল সঙ্কটের কারণে এখানে দালাল চক্রের আধিপত্য চলছে, রোগীরা তাদের কাছে অসহায়। আমরা এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা সচল করতে অত্যন্ত সিরিয়াস।’ রায়হান সিরাজী এমপি বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অচল যন্ত্রপাতি সরানো যাচ্ছে না, যা দেশের অর্থের অপচয়।’ গোলাম রব্বানী এমপি জানান, তারা তিন জনপ্রতিনিধি সম্মিলিতভাবে এই অব্যবস্থাপনার সবিস্তার তথ্য ও অভিজ্ঞতা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করবেন। এ ছাড়া পরিদর্শনকালে ইন্টার্নি চিকিৎসক কর্তৃক লাশ আটকে রেখে মৃতের ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন সংসদ সদস্যরা। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, সব সমস্যার তথ্য-উপাত্ত এমপিদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করছেন তারা।