পটুয়াখালীতে ভেকু দিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়ি গুঁড়িয়ে রাতভর লুটপাট আগুন

Printed Edition
মির্জাগঞ্জে ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া চেয়ারম্যানের বসতবাড়ি : নয়া দিগন্ত
মির্জাগঞ্জে ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া চেয়ারম্যানের বসতবাড়ি : নয়া দিগন্ত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় মাদবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান লাভলুর বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোর রাত পর্যন্ত চলা এই তাণ্ডবে লুট করা হয়েছে ঘরের মালামাল। পরে ছয়টি কক্ষে দেয়া হয়েছে আগুন। চেয়ারম্যান লাভলুর মা অসুস্থ থাকায় এ সময় তারা পরিবারসহ ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পির অভিযোগ, শাশুড়ি অসুস্থ থাকায় তারা পরিবারসহ ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই ও মাদবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী পাশা, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ হাওলাদার এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের নেতৃত্বে দুই থেকে আড়াই শতাধিক ব্যক্তি এক্সকাভেটর (ভেকু মেশিন) দিয়ে তাদের বসতঘর ভেঙে ফেলে। ঘর ভাঙা শেষে সেখানে থাকা চারটি ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিনসহ পরিবারের ব্যবহারযোগ্য সব মালামাল লুট করে ছয়টি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

মেহেরুন্নেছা আরো বলেন, হামলার আগে কাঠালতলি বাজারের ব্যবসায়ীদের ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেয়া হয় এবং উপস্থিত লোকজনের কাছ থেকে মুঠোফোন কেড়ে নেয়া হয়। তাদের বাড়ির পাশেই কাঠালতলি পুলিশ ফাঁড়ি হলেও তারা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাঠালতলি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এতে আমাদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে শাহিন চৌধুরী পাশা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিজানুর রহমান লাভলু একটি পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে বসতঘর তুলেছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের সাথে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়, তবে জমিসংক্রান্ত বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা নেই। হামলা-অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে কারা জড়িত জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, শুক্রবার তিনি ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছেন, তাই ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন।

মাদবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, মিজানুর রহমান লাভলু পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে ঘর তুলেছেন, যা ভূমি অফিসের মাধ্যমে প্রমাণিত। সেখানে তার এক টুকরো জমিও নাই।

মাদবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু) বলেন, জমি কিনে বাড়ি তুলেছি। কোনো বিরোধী জমি কিংবা দখল করি নাই।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: তৌহিদুজ্জামান বলেন, শনিবার ভোর রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা এক্সকাভেটর দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাভলুর বসতঘর ভেঙে অগ্নিসংযোগ করে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো: রাসেল বলেন, শনিবার ভোর রাতে ফায়ার সার্ভিসের কল পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন, তবে স্থানীয়রা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পরে কাঠালতলি পুলিশ ফাঁড়িকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।