সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে। ভোরের আলো উঁকি দেয়ার সাথে সাথে উৎসবে মেতে উঠে গোটা দেশ। লাল সাদা রঙের নতুন পোশাকে শোভাযাত্রা, লোকজ সঙ্গীত, নৃত্যে নতুন বছরকে বরণ করেন সর্বস্তরের মানুষ। ‘নববর্ষের নব স্বপ্নে নব উদ্যমে জাগো’ সেøাগানে আয়োজিত উৎসবটির প্রথম পর্বে ছিল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। এ ছাড়া দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), জাতীয় প্রেস ক্লাব, দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন।
নগরজুড়ে নানান শোভাযাত্রায় স্থান পায় মসজিদের মিনার, জাতীয় পতাকা, নাটাই-ঘুড়ি, হাতপাখা, চরকি, লাটিমসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ। ছিল কাস্তে-কোদাল হাতে কৃষক, জেলে, ঘটকসহ নানান বাঙালি ঐতিহ্যের পোশাকে সজ্জিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। সাংস্কৃতিক এ আয়োজনে ছিল চিরায়ত বাংলা গান, দেশাত্মবোধক গান, জারি-সারি, কবিতা আবৃত্তি, পুঁথিপাঠ, গম্ভীরা ও নাটিকা পরিবেশনা। ছিল খই, মুড়ি-মুড়কি, পায়েস, বাতাসা, খিচুড়ি ও পান্তা ইলিশের আয়োজন।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় নববর্ষ উদযাপনের প্রধান আকর্ষণ ‘ বৈশাখী শোভাযাত্রা’। ‘নববর্ষের ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্যে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। সকাল ৯টা ৬ মিনিটে চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে বের হয় ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ যোগ দেন। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউটার্ন নেয়। সেখান থেকে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে আবার চারুকলা অনুষদে এসে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে শেষ হয়।
এবারের শোভাযাত্রায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। শোভাযাত্রার শুরুর দিকে ছিল অশ্বারোহী। তার পর পর্যায়ক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশের পতাকা হাতে শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট, প্রক্টরিয়াল টিম, সবশেষে শোভাযাত্রার প্রধান ব্যানার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টর ও শিক্ষকরা।
শোভাযাত্রায় মোট পাঁচটি প্রধান প্রতীক বা মোটিফ রাখা হয়। এগুলো হলো মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া। মোটিফগুলো আলাদা আলাদা বার্তা বহন করে। মোরগ নতুন সূচনা, জাগরণ ও আলোর আগমনের প্রতীক হয়ে অন্ধকার দূর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দোতারা বাঙালির লোকসঙ্গীতের প্রাণ হিসেবে আমাদের সাংস্কৃতিক শেকড়কে তুলে ধরে, পাশাপাশি বাউল শিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে সঙ্গীতের মর্যাদার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের আদলে নির্মিত কাঠের হাতি লোকজ ঐতিহ্য, শক্তি ও আভিজাত্যের প্রতীক। টেপা আকৃতির ঘোড়া গ্রামবাংলার সরল জীবন ও শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। পায়রা সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও বৈশ্বিক শান্তির বার্তা বহন করে।
‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ সেথা শির’ এই প্রতিপাদ্যে দিনের শুরুতে রমনা বটমূলে প্রভাতী অনুষ্ঠান করে ছায়ানট। ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ভয়কে জয় করার প্রত্যয় নিয়ে শুরু হওয়া আয়োজন শেষ হয় সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে। উৎসবে শামিল হন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশীরাও।
ডিআরইউ : দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) বর্ষবরণ সংগঠনের সেগুনবাগিচাস্থ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে একাধিক আয়োজনের মধ্যে ছিল র্যালি, গান, নাচ, খই, মুড়ি-মুড়কি, পায়েস, বাতাসা, বিশেষ খাবার ও সদস্যদের জন্য গিফট।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে বৈশাখী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান। অনুষ্ঠান শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ডিআরইউ আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘পুতুল নাচ’ প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করেন। পরে আনন্দ র্যালি ও আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় প্রেস ক্লাব : জমজমাট অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করা হয়েছে। বরেণ্য শিল্পীদের বাউল গান, ভাওয়াইয়া ও দেশী গানে বর্ষবরণ উৎসব সবাইকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাব সদস্যদের ছেলেমেয়েদের পরিবেশনায় ‘এসো হে বৈশাখ এসো’ গান দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
সকাল ৮টায় প্রেস ক্লাব সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য খই, মুড়ি-মুড়কি, পায়েস, বাতাসা, খিচুড়ি ও পান্তা ইলিশে সকালের খাবার আয়োজন করা হয়। মধ্যাহ্নভোজের দেশীয় বিশেষ খাবারে সদস্যরা সপরিবারে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বাউল সঙ্গীত পরিবেশন করেন পুতুল বাউল, উপমা বাউল, উল্কা হোসেন, ইমু বাউল, শামিম বাউল। এ ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী সোহানুর রহমান, আবিদা রহমান সেতু ও মোহনা দাস গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুতুল নাচ পরিবেশিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সকাল ৯টায় ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশেষ অনুষ্ঠান ও আপ্যায়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক কাদের গণি চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বক্তব্য রাখেন। ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির আহ্বায়ক কাজী রওনাক হোসেন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রানা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ বেগম পলি, মোহাম্মদ মোমিন হোসেন, মাসুমুর রহমান খলিলী, এ কে এম মহসীন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমসহ অনেকে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক ও সাংবাদিক পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।
ডিআরইউ : দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) বর্ষবরণ সংগঠনের সেগুনবাগিচাস্থ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে একাধিক আয়োজনের মধ্যে ছিল র্যালি, গান, নাচ, খই, মুড়ি-মুড়কি, পায়েস, বাতাসা, বিশেষ খাবার ও সদস্যদের জন্য গিফট।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে বৈশাখী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান। অনুষ্ঠান শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ডিআরইউ আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘পুতুল নাচ’ প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করেন। পরে আনন্দ র্যালি ও আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ।
এর আগে তিনি আনন্দ র্যালিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনায় সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। এতে সভাপতির বক্তব্য রাখেন আবু সালেহ আকন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
দেশীয় সাংস্কৃতিক সংবাদ : জাতীয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ পয়লা বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে দিনব্যাপী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করে। সকাল ৮টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা, যা রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। অপর দিকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রমনা পার্কে অনুষ্ঠিত হয় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা।
অনুষ্ঠানটি দেশীয়র কেন্দ্রীয় সভাপতি সুরকার ও শিল্পী সাইফুল্লাহ মানছুরের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল ড. মনোয়ারুল ইসলামের পরিচালনায় কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়।
‘নববর্ষের নব স্বপ্নে নব উদ্যমে জাগো’ সেøাগানে আয়োজিত উৎসবটির প্রথম পর্বে ছিল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। এতে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কামাল হোসেন এমপি ও দেলাওয়ার হোসেন।
উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সঙ্গীত কেন্দ্রের সভাপতি শিল্পী তাফাজ্জল হোসাইন খান, বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির সভাপতি আবেদুর রহমান। এ ছাড়াও দেশবরেণ্য সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, নাটাই-ঘুড়ি, হাতপাখা, চরকি, লাটিমসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ। এ ছাড়া কাস্তে-কোদাল হাতে কৃষক, জেলে, ঘটকসহ নানান বাঙালি ঐতিহ্যের পোশাকে সজ্জিত হন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা।
শোভাযাত্রা শেষে ঢাকার রমনা পার্কের অরুণোদয় গেট (যমুনার সামনে) সংলগ্ন বকুলতলায় অনুষ্ঠিত হয় জমকালো বৈশাখী উৎসব। সাংস্কৃতিক এ আয়োজনে ছিল চিরায়ত বাংলা গান, দেশাত্মবোধক গান, জারি-সারি, কবিতা আবৃত্তি, পুঁথিপাঠ, গম্ভীরা ও নাটিকা পরিবেশনা।
এতে অংশগ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন- সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্র, বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমি, মহানগর শিল্পীগোষ্ঠী, রাজধানী শিল্পীগোষ্ঠী, উক্তি আবৃত্তি সংসদ, বাংলাদেশ সঙ্গীত কেন্দ্র, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও নাট্য সংসদ, বাংলা সাহিত্য পরিষদ, কবিতা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ চারুশিল্প পরিষদ, সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী, অনুপম সাংস্কৃতিক সংসদ, উচ্চারণ শিল্পীগোষ্ঠী, জাগরণ শিল্পীগোষ্ঠী, সন্দীপন শিল্পীগোষ্ঠী, নিমন্ত্রণ সাংস্কৃতিক সংসদ, সওগাত সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ, সারগাম সাংস্কৃতিক সংসদ, আজাদী সাংস্কৃতিক সংসদ, স্পন্দন সাংস্কৃতিক সংসদ এবং জিনজিরা শিল্পীগোষ্ঠী। বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন শরীফ বায়জীদ মাহমুদ, মাহবুব মুকুল, আহসান হাবীব খান।
এর বাইরে নগরীজুড়ে ছিল নানান সংস্কৃতি আয়োজন। রমনা বটমূলে সকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)। বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন কর্তৃক বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চলছে সাত দিনব্যাপী নববর্ষের মেলা, আলোচনা সভা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানমালা। সেই সাথে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গণে ২০ এপ্রিল থেকে ১৪ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা আয়োজন করা হয়েছে। সব কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে ঐতিহ্যবাহী খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা ও শিশু পরিবারের শিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সব জাদুঘর ও প্রতœস্থান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। এতে শিশু-কিশোর, ছাত্রছাত্রী প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ছিল বিনা টিকিটে প্রবেশের সুযোগ।
একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত তিনটি কনসার্টে গান পরিবেশন করে জনপ্রিয় ব্যান্ড চিরকুট। তাদের পরিবেশনায় ছিল ‘যাদুর শহর’, ‘আহারে জীবন’, ‘দুনিয়া’, ‘কানামাছি’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় মৌলিক গান।
চট্টগ্রামে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর রঙধনু জাতি গঠনের যে প্রত্যয়, এই আয়োজন তারই বাস্তব প্রতিফলন। যার মাধ্যমে সমাজের সব স্তরে, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষকে একত্রিত করে একটি সম্প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।
তিনি গত মঙ্গলবার বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে নগরীর ঐতিহাসিক ডিসি হিল প্রাঙ্গণে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে চট্টগ্রামবাসীকে বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং এ আয়োজনের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো: শওকত আলী। ওই অনুষ্ঠানে প্রিন্ট, ইলেকট্রিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা,কর্মচারী ও জেলার সব শ্রেণীর জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে এই আয়োজনের সূচনা হয় সকাল ৮টায় বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে, যা নগরীর সার্কিট হাউজসংলগ্ন কাজীর দেউড়ি মোড় থেকে শুরু হয়ে ঐতিহ্যবাহী ডিসি হিল প্রাঙ্গণে গিয়ে সমবেত হয়। দিনব্যাপী জেলায় নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, পুঁথিপাঠ, কবিতা আবৃতি, নৃত্য পরিবেশনা ও সঙ্গীতানুষ্ঠান।
গাজীপুরে নববর্ষ বরণ
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পয়লা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে। শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী আয়োজন ছিল চোখধাঁধানো। সকাল ৯টায় ভিসি প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। পরে বৈশাখী চত্বরে মেলা উদ্বোধন করা হয়, যেখানে দেশীয় খাবার, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর ১৭টি স্টল দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটেও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন শুরু হয়। প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ব্রি বিজ্ঞানী সমিতির সভাপতি ড. মো: ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের প্রধান বিজ্ঞানীরা বক্তব্য দেন।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) শোভাযাত্রা ও সমাবেশের মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপন করা হয়। ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে ভিসি বলেন, ‘নতুন বছরে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা অর্জন এবং শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে।’ পরে পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের অংশগ্রহণে উৎসব প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।



