পঞ্চগড়ের মির্জাপুর শাহী মসজিদ মুঘল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন

Printed Edition
পঞ্চগড়ের মির্জাপুর শাহী মসজিদ মুঘল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন
পঞ্চগড়ের মির্জাপুর শাহী মসজিদ মুঘল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন

মো: আসিফুজ্জামান আসিফ পঞ্চগড়

শত শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন হিসেবে আজও দাঁড়িয়ে আছে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর শাহী মসজিদ। মুঘল আমলের নান্দনিক স্থাপত্যরীতি, প্রাচীন টেরাকোটা ও নিপুণ কারুকাজে নির্মিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদটি কালের সাক্ষী হয়ে ধরে রেখেছে তার ঐতিহাসিক জৌলুশ। প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের পর্যটক ও ইতিহাস-ঐতিহ্যপ্রেমীরা মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে।

প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৫ ফুট প্রস্থের মসজিদটির ভেতরে দুই কাতারে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এর দেয়ালে টেরাকোটা, ফুল, লতাপাতা ও বিভিন্ন নকশার অপূর্ব কারুকাজ দর্শনার্থীদের সহজেই আকৃষ্ট করে। বিশেষত্ব হলো দেয়ালের প্রতিটি নকশা একে অপরের চেয়ে আলাদা। পাতলা ইটের ওপরও রয়েছে সূক্ষ্ম ও নান্দনিক অলঙ্করণ, যা প্রাচীন কারিগরদের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় প্রকাশ করছে।

মসজিদের চার কোণে রয়েছে চারটি মিনার। সামনের দেয়ালের প্রধান দরজার দুইপাশে থাকা মিনারগুলো গম্বুজের স্থাপত্যশৈলীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গম্বুজের শীর্ষবিন্দু ক্রমহ্রাসমান বেল্টের মাধ্যমে যুক্ত হওয়ায় মসজিদটির নির্মাণশৈলীতে মুঘল স্থাপত্যের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। নির্মাণশৈলীর দিক থেকে ঢাকার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত মুঘল আমলের আরেকটি ঐতিহাসিক মসজিদের সাথে এর বেশ কিছুটা সাদৃশ্য রয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন।

মসজিদটির নির্মাণকাল ও নির্মাতা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করেন, মির্জাপুর গ্রামের মালিকউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি এটি নির্মাণ করেন। আবার কারো মতে, দোস্ত মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করেন। মসজিদের মধ্যবর্তী দরজার ওপর পারস্য ভাষায় লেখা একটি অস্পষ্ট শিলালিপি রয়েছে। ওই শিলালিপির ভিত্তিতে কেউ কেউ ধারণা করেন, মুঘল শাসক শাহ সুজার আমলে মসজিদটি নির্মিত। আবার অন্য একটি মত অনুযায়ী, মুঘল সম্রাট শাহ আলমের শাসনামলে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় মুসল্লিদের ভাষ্য, তখনকার সময়ে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে মসজিদটির বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে মালিকউদ্দিন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ইরান থেকে দক্ষ কারিগর এনে এর সংস্কার করেন। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি।

মসজিদের পূর্ব পাশে রয়েছে ইটের তৈরি ইমামবাড়া বা হোসেনি দালান। গোলাকার অভ্যন্তরীণ কাঠামোর এ স্থাপনাটিতে একসময় ধর্মীয় নেতারা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতেন, ধর্ম বিষয়ে নানা বাণী দিতেন। তবে বর্তমানে এটি জরাজীর্ণ ও অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।