চট্টগ্রামে কোরবানিতে প্রথম পছন্দ ‘লাল বিরিষ’

Printed Edition

ওমর ফারুক চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গরু জাত ‘লাল বিরিষ’ বা ‘রেড চিটাগাং ক্যাটেল’। এ ষাঁড়টি কোরবানির মৌসুমে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। আকারে ছোট হলেও গরুগুলো দেখতে সুন্দর এবং সতেজ। এসব গরুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো লাল বর্ণের। প্রতি কোরবানি ঈদে চট্টগ্রামবাসীর প্রথম পছন্দের শীর্ষে থাকে এই ‘লাল বিরিষ’।

লাল গরুর চাহিদা চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি। ঐতিহ্য, স্বাদ আর ‘লাল বিরিষ’-এর টান চট্টগ্রামবাসীর বহুদিনের। এ গরুর লাল রঙ, সুস্বাদু গোশত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উচ্চ হওয়ায় এটি কোরবানির জন্য আদর্শ পছন্দ।

চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী পশুর বাজার, পতেঙ্গা টিএসপি মাঠ, আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ, মুনিরনগর আনন্দ বাজার সংলগ্ন রিং রোডের পাশে খালি জায়গা, হালিশহর ওয়ার্ডের গলাচিপাপাড়া বারানিঘাটা রোড সংলগ্ন মাঠ, চরপাড়া আলমগীর সাহেবের মাঠ, বাটারফ্লাই পার্কের উত্তরে চেয়ারম্যান মাঠ, বড়পোল এলাকার খালপাড় অস্থায়ী পশুর বাজার, সল্টগোলা রেলক্রসিং সংলগ্ন খালি মাঠ ও হালিশহর ওয়ার্ডের ধুমপাড়া সাগরপাড় লিংক রোডসংলগ্ন রেজাউল আমিন মাঠে লাল গরু নিয়ে আগ্রহ অসাধারণ মাত্রায়। ক্রেতাদের অনেকেই সরাসরি খোঁজ করছেন লাল রঙের দেশী গরু আছে কি না। দামও সাধারণ গরুর তুলনায় কিছুটা বেশি, তবুও সেই অতিরিক্ত টাকা দিতেও রাজি চট্টগ্রামের ক্রেতারা।

নগরের বাকলিয়া এলাকার জাহেদ মুন্সি নামের এক ক্রেতা বলেন, রেড চিটাগাং ক্যাটেল দেখতে সুন্দর ও মাঝারি আকৃতির হয়। গোশতে চর্বি কম ও সুস্বাদু হওয়ায় কোরবানির জন্য এটি আমার প্রথম প্রছন্দ।

আবু আজাদ নামের আরেক ক্রেতা বলেন, লাল গরুর গোশত এক ধরনের ঘ্রাণ আছে, যেটা অন্য গরুতে পাওয়া যায় না। ঈদের দিনে আমরা চাই ঘরের সবাই মিলে খাওয়ার সময় যেন সেই পুরনো স্বাদের বিরিষ ফিরে আসে। তাই প্রতি বছর লাল গরু খুঁজি।

কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যার টেক বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, লাল গরুর জন্য আলাদা করে হাটে জায়গা বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, বিশেষ করে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, নাটোর ও যশোর থেকে আসছে এ ধরনের গরু।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আলমগীর বলেন, লাল বিরিষ (ষাঁড়) হলো চট্টগ্রামের আদি এবং একমাত্র জাত। এ জাতের গরু দেখতে খুব সুন্দর ও শক্তিশালী হওয়ায় পছন্দের তালিকায় সবার শীর্ষে।

তিনি বলেন, প্রতি বছর চট্টগ্রামের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাল জাতের গরু নিয়ে আসেন বেপারিরা। পার্বত্য জেলাগুলো থেকেও প্রচুর লাল গরু আসে।

একাধিক খামারিরা বলেন, অধিক হারে সঙ্করায়নের ফলে রেড চিটাগাং ক্যাটেল প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বিশুদ্ধ আরসিসি গরু রয়েছে মাত্র কয়েক হাজার, অথচ সঙ্করায়িত গরুর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। এই পরিস্থিতিতে গরুর খাদ্য, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দাম বৃদ্ধি এবং উন্নত গবেষণার অভাব খামারিদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।