মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশ্রাফুল আলম দীর্ঘ ১৬ বছর একই কর্মস্থলে থাকার পর এখন পাশের মতলব দক্ষিণ উপজেলার দায়িত্বও পালন করছেন। দুই উপজেলায় মিলিয়ে ১০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকি তার ওপর থাকলেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ।
২০০৮ সালে মতলব উত্তরে যোগদানের পর থেকেই তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অন্য একজন কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কার্যত নিয়ন্ত্রণে ছিলেন আশ্রাফুল আলম- এমন অভিযোগও করছেন স্থানীয়রা।
একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জানান, নিয়োগ, এমপিওভুক্তি ও উচ্চতর স্কেলের কাজের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রসচিবদের কাছ থেকেও বিভিন্ন খাতে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কেন্দ্রসচিব বলেন, কেন্দ্রপ্রতি ৩৫-৪০ হাজার টাকা প্রশাসনের নামে এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি, খেলাধুলা আয়োজনসহ নানা কার্যক্রমের নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, এসব অর্থের সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও নির্বাচনী কার্যক্রমেও তার প্রভাব রয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করা বা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই উপজেলায় থাকায় তার প্রভাব এতটাই বেড়েছে যেকোনো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানপ্রধান অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না।
এ বিষয়ে আশ্রাফুল আলম বলেন, ‘কাজ করতে গেলে ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে। অনেকদিন এখানে আছি, এখন বদলির চেষ্টা করছি।’
চাঁদপুরের জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি বিস্তারিত জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



