বিশ্ব রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট দিবস আজ

Printed Edition

নাসিম সিকদার

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে যুদ্ধ, মহামারি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক পরম আশ্রয়স্থল রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট। প্রতি বছর ৮ মে এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা জীন হেনরী ডুনান্টের জন্মবার্ষিকীতে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘বিশ্ব রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট দিবস’। ১৮২৮ সালের এই দিনে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডুনান্টের জন্ম। বিশ্বের ১৭০টি দেশের জাতীয় সোসাইটিসহ আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি ও ফেডারেশন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে; বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এই মহতী আন্দোলনের রূপকারকে।

রেডক্রস গঠনের ইতিহাস যেমন বিষাদময়, তেমনি অনুপ্রেরণার। ১৮৫৯ সালের ২৪ জুন ইতালির সলফেরিনো প্রান্তরে ফ্রান্স ও অস্টিয়ার মধ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। ১৬ ঘণ্টার সেই রক্তয়ী যুদ্ধে ৪০ হাজার সৈন্য হতাহত হন। চিকিৎসার অভাবে প্রান্তরজুড়ে যখন আর্তনাদ বইছিল, তখন ব্যবসায়িক কাজে আসা ডুনান্ট সেই দৃশ্য দেখে ব্যথিত হন। তিনি স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেই দিনের সেই সাধারণ মানুষরাই ছিলেন রেডক্রসের প্রথম স্বেচ্ছাসেবক, যাদের অধিকাংশই নারী।

যুদ্ধক্ষেত্রের সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা থেকে ১৮৬২ সালে তিনি রচনা করেন কালজয়ী গ্রন্থ ‘এ মেমোরি অব সলফেরিনো’। বইটিতে তিনি প্রস্তাব করেন শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে আহতদের সেবায় প্রতিটি দেশে একটি করে নিরপেক্ষ সেবা সংস্থা থাকা জরুরি। তার এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮৬৩ সালের ১ ফেব্র“য়ারি গঠিত হয় ‘কমিটি অব ফাইভ’, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (ওঈজঈ) হিসেবে পরিচিতি পায়। একই বছর ২৬ অক্টোবর ১৬টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে জেনেভায় প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জন্ম নেয় আন্তর্জাতিক রেডক্রস। এই অনন্য মানবিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯০১ সালে হেনরী ডুনান্ট নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।