বগুড়া অফিস
সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প আগামী সপ্তাহে একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে। একই সাথে বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে মেট্রোরেলের আদলে উড়াল রেললাইন নির্মাণ, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পূর্ণাঙ্গ ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’, ওয়াসা এবং ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (বউক) গঠনের মেগা পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
শুক্রবার বগুড়া প্রেস ক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভায় তিনি বগুড়ার অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্পটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে দুই জেলা প্রশাসনকে ২২০০ কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। দাতা সংস্থার আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে এই রেলপথের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া শহরের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইন নিয়ে ভোগান্তি এড়াতে রানীরহাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত উড়াল রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এতে মূল রেল স্টেশনটি দোতলায় হবে, শহরে কোনো রেলগেট থাকবে না এবং নিচের অংশটি রাস্তা হিসেবে সিটি করপোরেশন ব্যবহার করতে পারবে।
বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ আইনটি সংশোধন করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় করার কাজ চলছে, যা ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে সংসদে পাস হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আইনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে এটি মন্ত্রিপরিষদে উঠবে। এখানে সাধারণ অনুষদের পাশাপাশি প্রকৌশল, কৃষি ও চিকিৎসা অনুষদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বগুড়া বিমানবন্দরকে আধুনিক ও বহুমুখী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে উল্লেখ করে সমবায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে ডমেস্টিক ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পাশাপাশি কার্গো সুবিধা ও বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধঘাঁটি থাকবে। এ ছাড়া এখানে দেশের প্রথম বেসরকারি পাইলট ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরায়ন সুবিন্যস্ত করতে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (বউক) এবং সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে ‘বগুড়া ওয়াসা’ স্থাপন করা হচ্ছে, যার খসড়া আইনের কাজ চলছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গাবতলীতে ফোর-লেন বাইপাস সড়ক, চারমাথা থেকে নওগাঁ পর্যন্ত রাস্তাটি ছয় লেনে এবং মোকামতলা থেকে হিলি পর্যন্ত রাস্তাটি সার্ভিস লেনসহ চার লেনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বগুড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের উন্নয়ন ও পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজের জন্য প্রায় ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যার টেন্ডার দ্রুতই আহ্বান করা হবে।
বগুড়ার তরুণ সমাজের মাদকাসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন তরুণরা চাকরির সুযোগ না পেয়ে হতাশায় মাদকের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সরকারি দফতরের পাঁচ লাখ শূন্যপদে বেকারদের আবেদনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সাথে কথা বলে দ্রুত সেখানে বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে। মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী বগুড়া প্রেস ক্লাবের সংস্কারের জন্য এক কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা করেন।
এ দিকে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির খবরের তীব্র প্রতিবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী। গাবতলীর বাগবাড়ী সড়কের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য স্থানীয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে সাময়িকভাবে ইট ভাড়া করে বিছিয়ে দিয়েছিল। এখন মূল কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হওয়ায় সেই ইট মালিককে ফেরত দেয়া হয়েছে। এর সাথে দুর্নীতির কোনো সম্পর্ক নেই।
বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানুর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। এ ছাড়াও সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গনেশ দাস ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সাঈদসহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



