ইকুয়েডরকে থামালেন দিয়ালো

Printed Edition

দক্ষিণ আমেরিকান দেশ ইকুয়েডর। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে তাদের তেমন কোনো অর্জন না থাকলেও কনমেবল অঞ্চলে তারা কঠিন প্রতিপক্ষ। কোপা আমেরিকাসহ ল্যাতিন জোনের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, উরুগুইয়ানদের নাকানি চোবানি খাওয়ায়। সর্বশেষ ১৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডই বলে দিচ্ছে কতটা শক্তিশালী ল্যাতিন আমেরিকার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত দেশটি। সঙ্গতকারণেই সবার প্রত্যাশা ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ জয়েই শুরু করবে তারা। তবে তাদের সেই মিশনে বড় সড় ধাক্কা দিয়েছে আইভোরি কোস্ট। পশ্চিম আফ্রিকান এই দেশটি শেষ সময়ের গোলে ১-০তে হারিয়েছে ইকুয়েডরকে। দিদিয়ের দ্রগবার দেশটির এই জয়ের নায়ক আমাদ দিয়ালো। ৫৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই উইঙ্গার। এরপর ৯০ মিনিটে তার নেয়া পেনাল্টি বক্সের ঠিক ভেতর থেকে বাম পায়ের শট জালে। ডাইভ দিয়েও কিছু করতে পারেননি বিপক্ষ কিপার হারনান গালিনদেজ উইলফোর্ড সিঙ্গো।

ইকুয়েডর এখন বিশ্বকাপ ফুটবলের নিয়মিত সঙ্গী। ২০০২ সাল থেকে প্রায় প্রতি বিশ্বকাপেই তাদের উপস্থিতি। মধ্যে ২০১০ ও ২০১৮তে কোয়ালিফাই করতে পারেনি। অন্য দিকে আইভোরি কোস্ট ১২ বছর পর ফিরে এল গ্রেটেস্ট শোন অন আর্থে। এসেই পাওয়া মহাগুরুত্বপূর্ণ এই জয়ে তাদের এখন উজ্জ্বল হলো সেরা ৩২-এ যাওয়ার সম্ভাবনা। তাদের বাকি দুই ম্যাচ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবং নবাগত এবং দুর্বল দল কুরাসাও। এর একটিতে জিতলেই মোটামুটি নকআউটে, যা তাদের প্রথমবার নিয়ে যাবে ওই স্থানে। তাদের পরের ম্যাচ জার্মানির সাথে। অন্য দিকে ২০০৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো নকআউটে খেলতে হলে ইকুয়েডরকে পরের দুই ম্যাচ থেকে কমপক্ষে ৪ পয়েন্ট পেতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ই’ গ্রুপের এই ম্যাচে ৬৪ হাজার ২৭৪ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ম্যাচটি যেন হোম গ্রাউন্ডেই খেলেছিল ইকুয়েডর। কারণ গ্যালারির অধিকাংশ দর্শকই ছিল তাদের। পুরো স্টেডিয়াম ছেয়ে গিয়েছিল হলুদ জার্সিতে। ম্যাচের প্রাপ্ত চান্স এবং দর্শক সমর্থন তাদের পক্ষে থাকলেও ভাগ্যে বিমুখ করেছে ল্যাতিন দেশটিকে। যে কারণে ২০২৪-এ ৬ সেপ্টেম্বর ব্রাজিলের কাছে হারের পর এবার ফের পরাজয়ের তেতো স্বাদ নিতে হলো তাদের। দলটি প্রথমার্ধেই এগিয়ে যেতে পারত দুই গোলে। কিন্তু তাদের দু’টি প্রচেষ্টা প্রতিহত হয় ক্রসবারে। বিরতির পর আবার একই জায়গায় বলের আঘাত। প্রথমার্ধে জন ইবোয়া ও নিলসন এনগুলোকে এভাবেই হতাশ হতে হয়। বিরতির পর গোলের দেখা পাননি অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এনার ভ্যালেন্সিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধে আইভোরি কোস্টও এই একই কারণে গোল পায়নি। ৫২ মিনেটে তাদের ইলি ওয়াহির শটও ক্রসবারে আঘাত হানে। ৬৪ মিনিটে ইকুয়েডরের গনজালো প্লাতার ২৫ গজ দূর থেকে নেয়া শট রুখে দেন আইভোরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোরানা। বিরতির পর এটিই ছিল কলম্বিয়ার পাশের দেশটির সেরা চান্স। আফ্রিকান দেশটিও কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল। তা জার্মান ক্লাব লিপজিগে খেলা ফরোয়ার্ড ইয়ান দিয়োমান্তের মাধ্যমে। তবে সাফল্য আসেনি। শেষ পর্যন্ত ৯০ মিনিটে উইলফোর্ড সিঙ্গোর ক্রস থেকে আফ্রিকান দেশটিকে উল্লাসে মাতান আমাদ দিয়ালো। যিনি ইনজুরির সাথে লড়াই করেই ফিরেছেন।

তার এই গোলের কারণে ১২ ম্যাচ কিন শিট রাখার পর এই প্রথম নিজেদের জালে বল গেল ইকুয়েডরের। সে সাথে জয়ের মধ্যেই থাকল আইভোরি কোস্ট। বিশ্বকাপের আগে সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে তারা ২-১ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্সকে। এই বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের শেষ ১০ ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি তারা। যার মধ্যে ছিল ৮ জয় ও দুই ড্র।