নরওয়ের মোকাবেলায় প্রস্তুত ইরাক

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে স্টেডিয়ামে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরাক। বাংলাদেশ সময় আজ দিবাগত রাত ৪টায় মাঠের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই দল। গ্রুপ ‘আই’-তে দুই দলেরই প্রথম ম্যাচ এটি। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা নরওয়ে ইউরোপীয় বাছাইপর্বে ৮ ম্যাচের সব ক’টি ম্যাচে জয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ৩৭ গোল করে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয়। এর মধ্যে ছিল চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে দুই লেগেই হারানো। অপর দিকে দীর্ঘ সময় পর বিশ্বকাপে ফেরা ইরাক দল র‌্যাংকিংয়ে বেশ পিছিয়ে। তবে তারা দল হিসেবে বেশ সুসংগঠিত। সম্প্রতি স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ড্র করে তারা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ফলে এই ম্যাচে নরওয়েকে ছেড়ে কথা বলবে না ইরাক।

নরওয়ের আক্রমণভাগের বিপক্ষে নিজেদের রক্ষণ জমাট রেখে কাউন্টার-অ্যাটাকে সুযোগ খুঁজতে হবে ইরাককে। কারণ ইউরোপের দেশটির মূল শক্তি হচ্ছে দলের ফরোয়ার্ড আর্লিং হলান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের মতো তারকা ফুটবলার। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য এক ত্রাস দলের নেতৃত্বে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড হলান্ড। আরো আছেন আন্তোনিও নুসা এবং আলেকজান্ডার সরলথ। তাদের নিয়ে গড়া দলটি এই ম্যাচে পরিষ্কার ফেবারিট।

বস স্টালে সোলবাকেনের দল তাদের বাছাইপর্বের গ্রুপে অপ্রতিরোধ্য ছিল। ইতালির সাথে একই গ্রুপে থাকায় আটলান্টিক পেরিয়ে নরওয়ের পথ হয়তো চ্যালেঞ্জে পূর্ণ ছিল; কিন্তু স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের ত্রুটিহীন অভিযানে তারা নির্ধারিত ২৪ পয়েন্টের সবগুলোই অর্জন করে। নরওয়েজিয়ানদের সর্বশেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল উপস্থিতি ছিল ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ১৯৯৮ সালের আসরে, যেখানে তারা গ্রুপ পর্ব পার করলেও ইতালির কাছে ১-০ গোলে হেরে শেষ ষোলো পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এবার সেই ইতালিকেই বাছাইপর্বে দুইবার হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে এসেছে বিশ্বমঞ্চে।

তবে বাছাইপর্ব শেষ হওয়ার পর খেলা চারটি প্রীতিম্যাচে ল্যান্ডসলাগেট মিশ্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে। তারা নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ গোলে হার, মরক্কো ও সুইজারল্যান্ডের সাথে ড্র’র পর সুইডেনের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় আত্মবিশ্বাস ফিরেছে নরওয়ের।

ইরাক যে টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে, সে বিষয়ে তারা সবসময় নিশ্চিত ছিল না। দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এতটাই উদ্বিগ্ন ছিল যে, গত বছর মার্চে প্যালেস্টাইনের কাছে হারের পর তারা কোচ জেসুস কাসাসকে বরখাস্ত করে। দুই মাস পর তার স্থলাভিষিক্ত হন অস্ট্রেলিয়ান গ্রাহাম আর্নল্ড। তিনি এমন একটি দলের দায়িত্ব নেন, যারা এএফসি বাছাইপর্ব থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে ছিল, যদিও তিনি দলটিকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম রাউন্ড পার করে আন্তঃ-কনফেডারেশন প্লে-অফে পৌঁছে দিতে সক্ষম হন। গত মার্চ মাসে প্লে-অফে বলিভিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের ফলে উসুদ আল-রাফিদাইন ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছায়। এটি একটি অসাধারণ অর্জন, কারণ ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টটি হবে এই প্রতিযোগিতায় তাদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো অংশগ্রহণ।

বলিভিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর তিনটি প্রীতিম্যাচ খেলে দেশটি উত্তর আমেরিকায় এসেছে। এই ম্যাচগুলোতে ইরাক মে মাসে অ্যান্ডোরাকে ১-০ গোলে, ৪ জুন স্পেনের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে এবং চার দিন পর ভেনিজুয়েলার কাছে ২-০ গোলে হেরে যায়। ইরাকের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা আলী জসিম। যিনি প্রতি-আক্রমণে দলের হয়ে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। আছেন স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেনকে ইব্রাহিম বায়েশ ও আলি আল-হামাদির মতো খেলোয়াড়।