নিজস্ব প্রতিবেদক
ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করলেন ছয়বারের এমপি ও জননন্দিত রাজনীতিবিদ শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনে তিনি মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে অংশ নেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের সাথে কথা বলেন। শেষে চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এতে ধর্ম সচিব কামাল উদ্দিনসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক। ধর্মমন্ত্রীর ক্ষেত্রে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য, অভিজ্ঞ ও সহনশীল নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা সবসময়ই গুরুত্ব পায়। এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে।
নির্বাচনী সাফল্যের ধারাবাহিকতা : সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কায়কোবাদ। এর মধ্য দিয়ে তিনি ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’ পূর্ণ করেন। তার সংসদীয় যাত্রা শুরু ১৯৮৬ সালে।
১৯৮৬ সালে তিনি তৃতীয় জাতীয় সংসদে প্রথমবার এমপি হন। ১৯৮৮সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ১৯৮৯ সালে সংসদের হুইপ নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে তিনি ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ সালে তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়নে পরপর দুইবার জয়ী হন। ২০২৬ সালে ষষ্ঠবার নির্বাচিত হলেন তিনি। ২০১৬ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পান।
১৯৯০ সালে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও আলেম-ওলামাদের সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তাকে এই খাতে কার্যকর প্রশাসনিক সক্ষমতা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
রাজনৈতিক জীবনে কায়কোবাদকে বহু চড়াই-উতরাই পেরোতে হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করতে হয় তাকে। প্রায় ১৫ বছর দেশের বাইরে থাকলেও তিনি সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী রাখেন এবং নিজ নির্বাচনী এলাকার সাথে যোগাযোগ বজায় রাখেন।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলার সময় তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেই স্থানীয়দের দাবি।
‘মুরাদনগরে কায়কোবাদ ‘দাদা ভাই’ নামেই পরিচিত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও জনসংযোগের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের রাজনীতি, আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততা এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগই তার জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি।
ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ : নবগঠিত মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পূর্ণ ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। মন্ত্রী হিসেবে প্রতিক্রিয়ায় কায়কোবাদ বলেন, “সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছায় হয়। জনগণ আমাকে ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত করেছেন। আমি মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব।”
ব্যক্তিগত জীবন : ব্যক্তিগতভাবে তিনি ছয় কন্যা সন্তানের জনক। ব্যবসা ও ঠিকাদারি পেশা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও ধীরে ধীরে রাজনীতিকেই জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, মামলা-নির্বাসন, বারবার নির্বাচনী সাফল্য এবং ধর্মীয় মহলে গ্রহণযোগ্যতা- সব মিলিয়ে কায়কোবাদের রাজনৈতিক জীবন এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়। অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে পুঁজি করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তিনি কতটা কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



