বগা সেতুর কাজ শুরুর ঘোষণা

জামায়াতের সভায় যোগ দিতে গিয়ে বিএনপি কর্মীদের রোষানলে সেতুমন্ত্রী

Printed Edition
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের সভায় সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ক্রেস্ট প্রদান করেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি:  নয়া দিগন্ত
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের সভায় সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ক্রেস্ট প্রদান করেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি: নয়া দিগন্ত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘বড় ব্যত্যয় না হলে এই বছরের শেষে বা আগামী বছরের প্রথম দিকে ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর কাজ শুরু করতে পারবো। এটা প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ।

গতকাল মঙ্গলবার পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ‘৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু বা বগা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই পরিদর্শন শেষে চরগরবদি ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার মাঠে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের আয়োজিত সভায় এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের মুখোমুখি হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

বেলা ১টার দিকে সেতুমন্ত্রী বগা ফেরিঘাটে পৌঁছান। সেখান থেকে নদীর পূর্বপাড়ে জামায়াত সমর্থিত স্থানীয় সংসদ ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের আয়োজিত এক সভায় যোগ দিতে ফেরিতে ওঠেন।

মন্ত্রী পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর সাথে সাথে সভাস্থলে মন্ত্রীর যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি সেøাগান দিতে থাকেন। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সেতুমন্ত্রী।

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর সেতুমন্ত্রী একই ফেরিতে পশ্চিমপাড়ে ফিরে আসেন। এরপর গাড়িবহর নিয়ে রওনা করে চরগরবদি ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার মাঠে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। এ সময় পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও সেতুমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বাউফলের এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।

জনসভায় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আমাদের সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জনস্বার্থ বিবেচনা করে অবকাঠামোর উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে। সেই কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক, জেলা মহাসড়ক- সেগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে, সম্প্রসারণ হচ্ছে, প্রশস্তকরণ চলছে। একই সাথে যেখানে সেতুর প্রয়োজন সেখানে সেই প্রকল্প আমরা হাতে নিচ্ছি।

তিনি বলেন, এই সেতুটি দীর্ঘদিন স্থবির অবস্থায় ছিল। কোনো অগ্রগতি নাই, বাস্তবায়নের কোনো কোনো চেষ্টা নাই। বরং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। সংসদ সদস্যদের দাবি আছে, আপনাদেরও প্রত্যাশা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাই আমি এখানে এসেছি।

মন্ত্রীর অবরুদ্ধ হওয়া নিয়ে বিএনপি সমর্থকরা বলেন, জামায়াতের সভাস্থলের ব্যানারে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় আমরা চাইনি যে মন্ত্রী মহোদয় সেই মঞ্চে উঠুক।

এদিকে জামায়াত সমর্থকরা জানান, জামায়াত আয়োজিত সভায় মন্ত্রীকে অংশ নিতে না দিতেই পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা এই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।