ঈদের আগেই কিছু এলাকায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

আগামী ঈদের আগেই পাইলট-ভিত্তিক (পরীক্ষামূলক) ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ উদ্বোধন করতে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে পিছিয়ে পড়া জেলা-উপজেলাকে টার্গেট করে এই কার্ড দেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা জরিপকে ব্যবহার করা হতে পারে। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা কর্তৃক ‘প্রভার্টি ম্যাপ’ ব্যবহার করা যায় কি না তাও খতিয়ে দেখা যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগে সীমিত পর্যায়ে হলেও এই কার্ড বিতরণ করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে দেশের আট বিভাগের দরিদ্রপ্রবণ উপজেলাকে টার্গেট করা হতে পারে। কার্ডের সংখ্যা কেমন হবে এখন পর্যন্ত তা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে তা সর্Ÿোচ্চ ২০ হাজার হতে পারে বলে জানা গেছে। প্রতি কার্ডধারী পরিবারকে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দেয়া হতে পারে। কিছু পরিবারকে এই অর্থের সমমূল্যের পণ্যসামগ্রীও দেয়া হতে পারে।

ফ্যামিলি কার্ড তৈরির কৌশল নিয়ে আলোচনা করার জন্য আজ রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির’ প্রথম সভা আহ্বান করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় এই কমিটির সদস্যদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এখানে ফ্যামিলি কার্ডের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে একটি কর্মকৌশল প্রণয়ন করার নির্দেশ দেয়া হবে। এই জন্য চার থেকে পাঁচ দিন সময় বেঁধে দেয়া হতে পারে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ১৫ সদস্যের ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়। অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনা সচিব ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

এই কমিটি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের একটি উপযুক্ত ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন করবে। কমিটির কাজের মধ্যে আরো আছে, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ব্যবস্থা, নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না পর্যালোচনা, সুবিধাভোগীদের তথ্যভাণ্ডার প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয় খানার তথ্যভাণ্ডার আন্তঃযোগাযোগ স্থাপনের ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশ এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার লক্ষ্যে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করা।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে গেল সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর এ বিষয়ে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের ইস্যু বিস্তারিত উল্লেখ আছে। এটা কার্যকর কিভাবে করবে, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের নানা সুবিধা এক জায়গায় আনতে চাই।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, এটা কিন্তু সার্বজনীন। এটাতে কোনো রেস্ট্রিকশন থাকবে না। তবে এটা একটা কমিটি করা হয়েছে, হয়তো শুরু করবে হতদরিদ্র থেকে আরম্ভ করে, তারপর দরিদ্র, তারপর মধ্যবিত্ত, এভাবে যাবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে অন্তত ঈদের আগেই শুরু করতে। এটা তো চালু হবে, এটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। এটা আমাদের খালি মেকানিজমটা বের করছে, মানে কার্যক্রমটা কিভাবে চালু করবে সেটি নিয়েই কথা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো: জাহিদ হোসেন জানান, রাজনৈতিক বিবেচনায় এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়া হবে না। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীও থাকবে না। এই কার্ড সরাসরি চলে যাবে পরিবারের নারী সদস্যদের কাছে। ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হলেও চলমান ভাতাগুলো অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।

নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে যে ৯টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার দিয়েছিলেন সেটির অন্যতম ছিল এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’। বিএনপির তরফে বলা হয়, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ ও পণ্যসেবার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।