ময়মনসিংহে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, নগরবাসী উদ্বিগ্ন

Printed Edition

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ

বর্ষা শুরুর পর থেকেই ময়মনসিংহে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। একই পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। জানা গেছে, চলতি বছর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালে চাপও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মশক নিধনে বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক)।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৩৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯৭ জন পুরুষ, ২৫ জন নারী এবং ১১ জন শিশু। জানুয়ারিতে ২২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১১ জন, মার্চে ১১ জন, এপ্রিলে ৯ জন, মে মাসে ২০ জন এবং জুনে সর্বোচ্চ ৫৩ জন রোগী ভর্তি হন। এ পর্যন্ত ফেব্রুয়ারিতে একজন এবং জুনে চারজনসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গুতে সর্বশেষ মারা যান জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার গাজিরপাড়া গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী চমক ফুল। গত ২৭ জুন মাসে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সহকারী ফোকাল পারসন ডা: মোস্তফা ফয়সাল বলেন, সাধারণত জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে। বর্তমানে বিভিন্ন মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা আরো বাড়লে পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হবে। ২০২৫ সালের ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই বছর দুই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। শয্যা সঙ্কটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হয়েছিল। তাই এবার শুরু থেকেই কার্যকর প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত বৃহস্পতিবার থেকে মশক নিধনে বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাউন্ডারি রোড এলাকায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: রুকুনুজ্জামান সরকার রোকন। কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি ফগার ও একটি স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সিটি প্রশাসক বলেন, নগরীর ৬, ১০, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। একই সাথে তিনি নগরবাসীকে তাদের বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। সেই সাথে বাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা ফুলের টবে যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেই দিকে নজর রাখতে নির্দেশ দেন। এ দিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ফগিং মেশিনে নিয়মিত ওষুধ স্প্রে করা হলেও অনেক এলাকায় মশার উপদ্রব কমেনি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফগিং নয়; এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস, ড্রেন পরিষ্কার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং জনসচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে।