নিজস্ব প্রতিবেদক
বিগত দিনের শিক্ষা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন নতুন শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ করে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ কাজের রোডম্যাপ ঘোষণা করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। এ সময় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ববি হাজ্জাজ বলেন, আজ আমরা দিকনির্দেশনা দিলাম। বাস্তবায়নের জন্য তিন ধাপের টাইমলাইন ধরে এগোব। প্রথম ধাপ হবে এখন থেকে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত। এ ধাপে ‘বাজেট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ডায়াগনস্টিক রিভিউ’; ‘উন্নয়ন বাজেটের ৫৩ শতাংশ ফেরত যাওয়ার কারণভিত্তিক রুট-কজ অ্যানালাইসিস’ এবং ‘শিক্ষকদের ট্যাব দেয়া, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ভাষা শিক্ষার পাইলট ডিজাইন’ করা হবে। দ্বিতীয় ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে ঈদুল ফিতরের পর। ববি হাজ্জাজ বলেন, দ্বিতীয় ধাপে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতি নিয়ে জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ ঘোষণা করব। সেটা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক, বিভাগভিত্তিক ও পরিমাপযোগ্য সূচকসহ।
তৃতীয় ধাপ হবে ১২ থেকে ৩৬ মাসের; অর্থাৎ এক বছর থেকে তিন বছর। এ ধাপের কাজের বর্ণনা তুলে ধরে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় ধাপে আমরা পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বড় টেকনিক্যাল রি-ফর্ম করব। কারিগরি, সাধারণ এবং মাদরাসা শিক্ষায় ব্রিজিং (সেতুবন্ধ) করা হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও ইনোভেশন গ্র্যান্ট স্কেল আপ করা হবে।
শিক্ষকদের ক্লাসরুম ছেড়ে আন্দোলনে আসতে হবে না
শিক্ষকদের উদ্দেশে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আপনারা শিক্ষকতা করবেন, ক্লাসরুম ছেড়ে আন্দোলন করবেন- এটা তো হতে পারে না। আপনাদের দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে। যেভাবে আসার সেভাবে আসবেন আমরা সেগুলো অ্যাড্রেস করব। আমি আশাকরি তারা আমাদের মেসেজ পেয়ে গেছেন এবং পেয়ে যাবেন, সেভাবে তারা কাজ করবেন। শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন আরো বলেন, রাজপথ দখল করে দাবি-দাওয়া আদায় করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা দাবি-দাওয়া আদায় করতে করতে এ পর্যন্ত এসেছি। আমরা জানি কোনটা দিতে হবে, কোনটা দিতে হবে না। কারণ শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। মন্ত্রী বলেন, আমাদের ভিশন নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল। সামনে এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে, প্রশ্নপত্র হয়েছে, সেটা বণ্টনে কোনো ঝামেলা যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেছি। তিনি বলেন, আমি যখন প্রথম দায়িত্ব পেয়েছিলাম তখন বরিশাল শিক্ষা বোর্ড বানিয়েছিলাম। চেয়ারম্যান বানিয়েছিলাম একটি পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষকে।
এমপিওভুক্তিতে আরো যাচাই বাছাই করা হবে
জাতীয় নির্বাচনের আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য যেসব আবেদন পড়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে কি না- আমরা সেসব বিষয় খতিয়ে দেখব।
মন্ত্রী আরো বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির প্রক্রিয়াটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চালু করা হবে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি আশা করছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াটা চালু করা হবে। আর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সিস্টেমে যদি কোনো ত্রুটি থেকে থাকে, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের বেতন নিয়ে বলেন, ‘শিক্ষকদের বেতন দেরিতে হলে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং তা ত্বরান্বিত করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জবাবদিহিতার আওতায় আসবে এনটিআরসিএ
এখন থেকে জবাবদিহিতার আওতায় আসবে এনটিআরসিএ এমন ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন,কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্যায় করবে আর শাস্তি পাবে না- এমন কোনো ব্যবস্থা থাকতে পারে না। এটা কোনোভাবেই হতে পারে না। এনটিআরসিএর শুরু থেকেই শাস্তির বিষয়গুলো বিধানে ছিল। সেগুলো অনেকটা ক্ষয়িঞ্চু হয়ে গেছে। এখন আমরা আবার রিভিউ করে নেবো। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জোট সরকারের সময় আমরা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) করেছিলাম। কারণ ছিল; শিক্ষক নিয়োগে অযাচিত বা ম্যাপিংয়ের বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কন্ট্রোলে নিয়ে আসা। এর পেছনে আমরা কাজ করেছিলাম। সেই কথা মনে করিয়ে আমি বলতে চাই এখানে কেউ অন্যায় করবে আর শাস্তি পাবে না- এমন হতে পারে না।
শিক্ষকদের কল্যাণ ও অবসর ফান্ডেরও হিসেব নেয়া হবে
শিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেছেন, অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের ফান্ড তছরুপ হয়েছে, এটার ব্যাপারে আমরা খেয়াল রাখছি। আমার এলাকায় এমনও শিক্ষক রয়েছেন যারা অবসরের পরে এখনো এক টাকাও পাননি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমওিপভুক্তির ব্যাপারে সভা করে সরকারের নিয়ম-নীতির বিষয় কিভাবে কী করা যায় দেখা হবে। এখানে যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। শিক্ষাক্রম পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা কারিকুলাম রিভিউ করব, যেখানে যা পরিমার্জন করা প্রয়োজন তা করব। সে জন্য আমাদের এক্সপার্ট রয়েছেন তাদের মাধ্যমে করা হবে।



