পংকবিলার মিষ্টি লিচু যাচ্ছে ২০ জেলায়

Printed Edition

শরিফুজ্জামান লোহাগড়া (নড়াইল)

নড়াইল সদরের চিত্রা নদীর তীরের গ্রাম পংকবিলা। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই জনপদে লিচু চাষের ঐতিহ্য। শত বছরের সেই ধারাবাহিকতায় গ্রামটি এখন জেলাজুড়ে ‘লিচু গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেয়ে খুশি স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এখান থেকে সংগৃহীত বিষমুক্ত লিচু এখন সরবরাহ করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত ২০টি জেলায়।

লিচুর মৌসুম শুরুর পর থেকেই ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে লিচু সংগ্রহ, বাছাই ও প্যাকিংয়ের কাজ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা ভিড় করছেন বাগানে। কেউ গাছের মগডাল থেকে লিচু নামাচ্ছেন, কেউ বা ব্যস্ত গণনায়। স্থানীয় চাষিরা জানান, এখানকার লিচু আগে পাকে বলে বাজারে এর চাহিদা ও দাম; দুটোই বেশি থাকে। সপ্তাহখানেক আগে থেকেই লিচু বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত ১০ বছরের তুলনায় এবার সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। বাজারে প্রতি ১০০ লিচু খুচরা বিক্রি হচ্ছে ২০০-৩৫০ টাকায়। আর পাইকাররা প্রতি হাজার লিচু কিনছেন ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে। চাষিদের দাবি, সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় পংকবিলার লিচুর স্বাদ ও মানে অনন্য।

পংকবিলার সাফল্য দেখে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতেও লিচু চাষে আগ্রহ বাড়ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এ বছর পংকবিলায় ৪২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দেশী জাতের পাশাপাশি বোম্বাই, মোজাফফর ও চায়না-৩ জাতের লিচু প্রধান। এ বছর ৪০০-৪৫০ মেট্রিকটন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।

পংকবিলার পাশাপাশি লোহাগড়া উপজেলার নলদী, দিঘলিয়া ও ইতনা ইউনিয়নেও এখন বাণিজ্যিকভাবে ছোট ছোট লিচু বাগান গড়ে উঠছে। কৃষকদের কারিগরি সহায়তা দিতে কাজ করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। নড়াইল জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, আমরা কৃষকদের আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও পোকামাকড় দমন বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। লিচুর আবাদ ও মান ঠিক রাখতে মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামীতে এ অঞ্চলে লিচুর উৎপাদন আরো বাড়বে।