ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি গ্রেফতারে ডাক্তার ও ঊর্ধ্বতনদের ক্ষোভ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি শাহবাগ থানার পুলিশ ও এনএসআইর যৌথ অভিযানে বিভিন্ন ডায়গনস্টিক সেন্টারের দালালদের সাথে কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদেরও (মেডিক্যালে রিপ্রেজেনটেটিভ) গ্রেফতার করায় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি, চিকিৎসক এবং ওষুধ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ডাক্তারদের সাথে কাজ করেন, ডাক্তারদের কাছে নতুন ওষুধ পরিচয় করিয়ে দেন এবং একই সাথে কোম্পানির ওষুধ লেখার জন্য ডাক্তারদের অনুরোধ করেন। এখানে কোনোটাই অবৈধ কিছু না।

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব মো: হালিমুজ্জামান বলেন, এটা একটা প্রফেশনাল ও নোবেল জব। নিয়ম মেনেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের দালাল বলে ধরে নিয়ে যাওয়া গর্হিত কাজ হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন যেন না হয় সে ব্যাপারে আমরা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি বলেন, তাদেরও পরিবার আছে, কিছু না জেনে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া অসম্মানজনক হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিশিষ্ট ভাস্কোলার সার্জন অধ্যাপক ডা: সাকলায়েন রাসেল বলেন, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কেন ধরে নেয়া হলো তা বুঝতে পারছি না। এটা খুবই অন্যায় কাজ হয়েছে। এই মানুষগুলো সবাই ন্যূনতম গ্রাজুয়েট, পেটের তাগিদে সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন। তারা রোগী সেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা ওষুধ সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেন। নতুন ওষুধ, গবেষণা এবং চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে ডাক্তারদের নিয়মিত আপডেট দেন তারা। ওষুধের ডোজ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ব্যবহারবিধি বিষয়ে তারা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন, যা রোগীর নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রযুক্তি ও চিকিৎসা পদ্ধতি দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তারা। এমনকি চিকিৎসকদের অনুরোধে অনেক সময় দরিদ্র রোগীদের সরাসরি কোম্পানির দামে ওষুধ সরবরাহ করে। অনেক সময় তারা ক্যাম্পেইন, সেমিনার, বা প্রোগ্রামের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করেন। বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছাতে ফিল্ড লেভেলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের বড়জোর বলতে পারেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে ডাক্তারের চেম্বারে ভিড় করবেন না, রোগীদের বিরক্ত করবেন না, রোগীদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি করবেন না’ অথবা দিতে পারেন অন্য কোনো পরামর্শ; কিন্তু তাদের গ্রেফতার করতে পারেন না। অধ্যাপক সাকলায়েন রাসেল বলেন, ‘আমি কোনো ওষুধ কোম্পানির কাছে দায়বদ্ধ না, কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক কারো সাথে নেই। আমার নিজের ও পরিবারের ওষুধ নিজে কিনে খাই। এমনকি আমি ওষুধের স্যাম্পলিংকেও নিরুৎসাহিত করি। বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করছি।

একজন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি রফিকুল আলম বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সাথে সাম্প্রতিক যে ঘটনা ঘটেছে, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক, অনভিপ্রেত এবং পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী। কর্মক্ষেত্রে একজন পেশাজীবীকে এভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।