মো: মুরাদ হোসেন মণ্ডল উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীতে বিলীন হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নদীতীরবর্তী জেলে ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো। অনেকের বসতভিটার বড় অংশ ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে। অবশিষ্ট সামান্য জায়গা নিয়ে পরিবার-পরিজনসহ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
সরেজমিন থেতরাই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হোকডাঙ্গা মাঝিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জেলে সুশান্ত কুমারের আট শতক বসতভিটার মধ্যে ছয় শতকই সাম্প্রতিক ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বজরা ইউনিয়নের পশ্চিম বজরা ও চর বজরা, থেতরাই ইউনিয়নের মাঝিপাড়া ও ফকিরপাড়া, দলদলিয়া ইউনিয়নের অর্জুন, লাল মসজিদ, ঠুটাপাইকার ও রকিদেবসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে একের পর এক ফসলিজমি, বসতবাড়ি ও বড় বড় গাছ নদীতে বিলীন হচ্ছে। বর্তমানে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি পরিবার, একটি মসজিদ এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙনকবলিত বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চললেও এর গতি অত্যন্ত ধীর। গত বছরও একই এলাকায় তিস্তার ভাঙনে ১৫ থেকে ২০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছিল। তাদের অনেকেই এখনো অন্যের জমিতে অস্থায়ী ঘর তুলে বসবাস করছেন। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, তিস্তার ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় সহায়তা ও করণীয় বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



