ক্রীড়া প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু হতে এখনো বাকি কিছু দিন। তার আগেই বাংলাদেশের জন্য এলো একের পর এক দুঃসংবাদ। টাইগার শিবিরে চোটের হানায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন নাহিদ রানা। প্রথম টেস্টে লিটন কুমার দাসকে পাচ্ছে না, আর শরিফুল ইসলামকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তার ফিটনেসের ওপর! গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে খেলোয়াড়দের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
নাহিদ রানা
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ টি-২০তে বোলিংয়ের সময় চোট পান নাহিদ। পরীক্ষায় তার বাঁ পাশের সাইড স্ট্রেনে গ্রেড-২ ইনজুরি ধরা পড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, পুরোপুরি সুস্থ হতে তার অন্তত চার সপ্তাহ লাগবে। এরপর ম্যাচের উপযোগী বোলিং ওয়ার্কলোডে ফিরতে আরো কয়েক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে তার খেলার আর কোনো সুযোগ থাকছে না।
লিটন দাস
প্রথম টেস্টের আগে লিটন কুমার দাসকেও পাচ্ছে না বাংলাদেশ। বাঁ পায়ের কাফের চোট কাটিয়ে উঠতে সিঙ্গাপুরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে ২৮ জুলাই থেকে দৌড় ও কন্ডিশনিং কার্যক্রম শুরু করবেন তিনি। ১৩ আগস্ট ফিটনেস পরীক্ষার পর সবকিছু সন্তোষজনক হলে দ্বিতীয় টেস্টের দলে তার ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
শরিফুল ইসলাম
তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। গ্রেড-১ হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার পথে থাকা এই বাঁ হাতি পেসার ২৯ জুলাই থেকে বোলিং শুরু করবেন। ১২ আগস্ট তার ফিটনেস মূল্যায়ন হবে। মেডিক্যাল টিমের ছাড়পত্র পেলে দ্বিতীয় টেস্টে তাকে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে প্রথম টেস্টে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই জানিয়েছে বিসিবি।
তানজিম সাকিব
এ দিকে দীর্ঘমেয়াদি চোটে মাঠের বাইরে আছেন তানজিম হাসান সাকিব। হাড়ের ইনজুরির কারণে তাকে আরো আট থেকে দশ সপ্তাহ পুনর্বাসনে থাকতে হবে। এরপর নতুন করে স্ক্যানের ফলাফলের ভিত্তিতে মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বিসিবির আশা, বছরের শেষ দিকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন তিনি।
মোস্তাফিজ
পুনর্বাসনে আছেন অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানও। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিং ও কাফের চোট থেকে সেরে উঠতে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চলতি মাসের শেষ দিকে তার ফিটনেস পরীক্ষা হবে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ১৮ আগস্টের পর থেকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকবেন এই বাঁ হাতি পেসার।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। তবে সিরিজ শুরুর আগেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের চোট বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে চোটের ধাক্কায় বিপাকে বাংলাদেশ। দলের পাঁচ ক্রিকেটারই কোনো না কোনোভাবে চোটে আক্রান্ত। ফলে ম্যাচে তাদের শারীরিক সক্ষমতা ও পারফরম্যান্স নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চোটের কারণে দলের ভারসাম্যও কিছুটা নড়বড়ে হতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পুরো সামর্থ্য নিয়ে খেলতে না পারলে তার প্রভাব পড়তে পারে ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং তিন বিভাগেই। দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে থাকার প্রয়োজন হলে চোটগ্রস্ত ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে ক্লান্তি কিংবা অস্বস্তি দেখা দেয়ার আশঙ্কাও থাকছে।
তবে চোটকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন না বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা; বরং যারা মাঠে নামবেন, তাদেরই নিজেদের সেরাটা দেয়ার লক্ষ্য। দলের সমন্বয় ও কৌশল ঠিক রেখে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই জমিয়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই চোটে আক্রান্ত পাঁচ ক্রিকেটার শেষ পর্যন্ত কতটা ফিট থাকেন এবং মাঠে তাদের চোটের প্রভাব কতটা পড়ে। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সামান্য দুর্বলতাও বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তাই বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি যেমন দক্ষতার পরীক্ষা, তেমনি ফিটনেসেরও বড় চ্যালেঞ্জ।



